আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এসএম ফয়সল

চা-শ্রমিকসহ সব মানুষের সমস্যার সমাধান করা হবে

উপজেলা প্রতিনিধি, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

চা-শ্রমিকসহ সব মানুষের সমস্যার সমাধান করা হবে
ছবি: আমার দেশ

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম ফয়সল বলেছেন, চা-বাগানের শ্রমিেরা বছরের পর বছর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। তাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা। আমি নির্বাচিত হলে এসব খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারীর মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন। প্রতিটি বাগানে মানসম্মত স্কুল, স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, নিরাপদ বাসস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ে কাজ করব। চা–শ্রমিকদের ঘরে আলো জ্বালাতে পারলে, তাদের সন্তানদের হাতে বই তুলে দিতে পারলে, একজন শ্রমিক যদি নিশ্চিন্তে বলতে পারেন—‘আমার ভবিষ্যৎ নিরাপদ’—তাহলেই আমার রাজনীতির সার্থকতা।

বিজ্ঞাপন

সব মানুষ সমতার ভিত্তিতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। কোনো মানুষ বৈষম্যের শিকার হবে না। কোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি থাকবে না। হিন্দু-মুসলমান সমান মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। রোববার রাতে সুরমা চা-বাগানের ১০ নং মাঠে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৮টি চা-বাগানের শ্রমিকেরা ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে চুনারুঘাট উপজেলার ২৩টি ও মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা-বাগান থেকে কয়েক হাজার নারী–পুরুষ চা-শ্রমিক অংশ নেন। ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ব্যানার, ফেস্টুন ও ধানের শীষ প্রতীক সংবলিত প্লাকার্ড হাতে নিয়ে শ্রমিকেরা মিছিলসহ সভাস্থলে প্রবেশ করেন। পুরো মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উদ্দীপনা।

চা-বাগান নেতারা বলেন, এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে চা-শ্রমিকদের অংশগ্রহণে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। তারা দাবি করেন, ২৮টি চা-বাগানের প্রায় ৭৫ হাজার ভোটার ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে চা-শ্রমিকেরা নিজেদের অধিকার, ময়ার্দা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, যাদের ঘামে দেশের অর্থনীতি সবুজ থাকে, কিন্তু যাদের জীবন আজও রঙিন হয়নি, তারা হলেন আমাদের চা–শ্রমিক ভাই ও বোনেরা।চা–শ্রমিকেরা যুগের পর যুগ ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে তারা বাগানে নামেন, রোদ–বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাতা তোলেন, অথচ দিনের শেষে তাদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এটি কোনো দয়া নয়, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। অনেক চা–শ্রমিক পরিবার ন্যূনতম চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়, সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত, নিরাপদ বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। তাদের সংকট দূর করতে পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন, শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মহালদারসহ চা-বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা বক্তব্য দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...