পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। কিন্তু, তাদের অধিকাংশের পুঁজিবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। অথচ, তারা মনে করেন যে, তারা শেয়ারবাজার বোঝেন।
তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগকারী শুনে শুনে বিনিয়োগ করেন। তারা গেম্বলারদের পেছনে ছোটেন। তারা যখন কোনো শেয়ার কেনেন, তারা সবাই একটি শেয়ারই কেনেন। এতে তারা বারবার মার্কেট ম্যানুপুলেটারদের মাধ্যমে প্রতারিত হন।
শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বড়লোক হতে চান। তারা সেজন্য ভালো শেয়ারে না গিয়ে দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আমাদের দেশে তো বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। এখানে কী করতে হবে? বিনিয়োগকারীদের গাইড করার লোক থাকতে হবে। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর হাতে সিগনেচার প্রক্রিয়া রাখবো না। এটিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো যে প্রক্রিয়ার দুর্নীতি করে থাকে, সেটির আর সুযোগ থাকবে না।
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রধান আরো বলেন, রেগুলেটর ও মার্কেট— দুটো দিকই দেখতে হবে। একটা দেখলে হবে না। গতবছর যে মার্জিন রুলস হলো, সেটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটা নিরাশ করেছে। তাই, আমরা এটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।
শীর্ষক ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন- অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

