ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম হুহু করে বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দাম এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর ইউরো নিউজের।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার ছাড়িয়েছিল।
ট্রেডিং ইকোনমিক্স সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বাজার শুরুর আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১০ ডলার। পরে কিছুটা দর নেমে রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে ১০৮.৮৩ ডলার হয়, যা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপরই তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় তেলের দাম ১১১.৭০ ডলারে ওঠে।
অন্যদিকে, গতকাল বাজারের শুরুতে ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দাম ১০০.৯৩ ডলার ছিল। ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটের দর ১০৩.৩৬ ডলার থেকে বড় পতন হয়, যা পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যে ৯৮.১২ ডলারে নামে। কিছু সময় স্থিতিশীল থাকার পর দুপুর ১টার পর থেকে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় দিনের সর্বোচ্চ দর ১০১.১৪ ডলারে পৌঁছায়।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দামের এই ঊর্ধ্বগতি অস্থিরতার কারণে বাজারে একটি বড় ধরনের ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত এই রিস্ক প্রিমিয়াম কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তারা বলেন, ট্যাংকার ভাড়ার রেকর্ড হার জ্বালানির খরচ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকারগুলো বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এটি কার্যকর হলে ট্যাংকারগুলো পুনরায় বৈধ বাজারে ফিরতে পারবে, যা জাহাজ পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে এবং তেল সরবরাহের খরচ কমাতে সাহায্য করবে। তবে এর মাধ্যমে ঠিক কতটা সক্ষমতা বাড়বে বা কত দ্রুত জ্বালানির দামে স্বস্তি ফিরবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে এসেছে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।
এদিকে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার এশিয়ায় এলএনজির স্পট দর প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট ৩০.৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। গত শনিবার ইয়েমেন উপকূলে ছোট নৌকা থেকে একটি এলএনজি ট্যাংকারে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস রিপোর্ট করে। এরপরই এই অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো ঘনীভূত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
ইউরোপেও গ্যাসের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আগামী মাসে সরবরাহের জন্য ডাচ টিটিএফ প্রাকৃতিক গ্যাসের ফিউচার দর প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৮ ইউরোর সামান্য নিচে অবস্থান করছিল। ভোর ৬টার ঠিক আগে এই দর ৮৯ ইউরোর ওপরে ছিল, যা থেকে তা কিছুটা কমেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

