সেমিনারে গভর্নর

‘দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম থেকে বের হয়ে গেছে’

‘দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম থেকে বের হয়ে গেছে’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতিতে সমস্যা হয়েছে। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে কমে ২০ বিলিয়ন ডলার হয়ে গেছে। ২৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হারিয়েছি। যার কারণে তারল্যও কমেছে। দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম থেকে চলে গেছে। এ টাকাগুলো এখন দেশের বাইরে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে আর্থিক খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই), বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি)।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত অর্থনীতি পুনর্গঠনে দরকার অর্থনৈতিক বিপ্লব। এজন্য জুলাই বিপ্লবকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। দূর করতে হবে অর্থনৈতিক বৈষম্য। আনুষ্ঠানিক খাতে আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। এজন্য ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে হবে।

গভর্নর বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্ঘটনাকবলিত অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা হয়তো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের কাছে একটি আংশিকভাবে পুনর্গঠিত অর্থনীতি দিয়ে যাব। তবে ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান রাখবে-এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

টাকা পাচার হওয়ার কারণে ব্যাংক খাতে আমানত প্রবৃদ্ধি কমে গেছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে কমে ২০ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সিস্টেম থেকে বের হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো এখন দেশের বাইরে। এ কারণে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। তাই আমাদের অর্থনীতিকে সেই খেসারত দিতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রিজার্ভ পুনর্গঠন করা। প্রবাসী আয়, রপ্তানি ও বৈদেশিক অর্থায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে আবার চাঙা করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২৭ বিলিয়ন ডলার। এটি শিগগিরই ৩০ বিলিয়ন ডলারের দিকে যাবে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমরা ক্যাশলেস (নগদবিহীন লেনদেন) তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে এগোতে চাই। ইতোমধ্যে ২০ হাজার এজেন্ট কার্যক্রম চালাচ্ছে, যা শিগগিরই ২৬ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এই ধারাকে জোরদার করা গেলে ক্ষুদ্রঋণে বড় পরিবর্তন আসবে।’

১৯৭১ থেকে ২০২৪-দীর্ঘ ৫৩ বছরে দেশের ব্যাংক খাত কোন অবস্থায় পৌঁছেছে, তার একটা হিসাব কষেছে পিআরআই। তারা বলছে, ব্যাংক লোনের ৭৫ শতাংশই মাত্র এক শতাংশ অ্যাকাউন্টধারীর পকেটে। আবার ব্যাংকের ৪২ শতাংশ আমানতের শূন্য দশমিক এক শতাংশ অ্যাকাউন্টধারীর পকেটে। সিংহভাগ ঋণ বিতরণ হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তথ্য অনুযায়ী, মোট ঋণের ৭৮ শতাংশ যাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের হাতে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়দি সাত্তার ও প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট আশিকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের পরিচালক আনিস উর রহমান এবং পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ আলম।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন