রমজানে আমদানি ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলার সরবরাহ কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা অর্থাৎ নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) কমে ৬০ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির ফলে বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অপরদিকে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকীর পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বাজার তারল্যে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। নেট ওপেন পজিশন (এনওপি) এবং নেট এফএক্স হোল্ডিং—উভয় সূচকেই সময়ের সঙ্গে উন্নতির ধারাবাহিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের জুনে ব্যাংকগুলোর এনওপি ছিল ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের জুনে তা আরও বেড়ে হয় ১১১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৬০ কোটি ২৭ লাখ ডলারে নেমে আসে। তবে বৃহস্পতিবার তা পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে কেন্দ্র করে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এনওপি সাময়িকভাবে কমে যায়। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির ফলে এখন তা আবার বেড়েছে। এটি ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দৃঢ় অবস্থানকে নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালের জুনে নেট এফএক্স হোল্ডিং ছিল ৩৪০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের জুনে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। যদিও ২০২৫ সালের জুনে এটি সামান্য কমে ৩৫০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ব্যয়ের চাপের কারণে তা আরও কমে ২৩০ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরবর্তীতে মার্চ মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজার তারল্য ৩৩৯ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সাময়িক চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। নীতিগত সহায়তা এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ফলে খাতটির স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বাজার তারল্যে এই ইতিবাচক প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

