‎বাণিজ্য ঘাটতি ৪.১৭ শতাংশ কমেছে

‎বাণিজ্য ঘাটতি ৪.১৭ শতাংশ কমেছে

‎দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আরো কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ কম। তার আগের অর্থবছরের এ সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২২ কোটি ডলার। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

‎তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ২৪ কোটি ডলারের পণ্য এবং রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি ডলারের পণ্য। রপ্তানি ও আমদানির এই ব্যবধান থেকেই বাণিজ্য ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে।

‎বাণিজ্য ঘাটতি কমার পাশাপাশি চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জুলাই–মে সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ কোটি ডলারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে প্রায় ৮৬ শতাংশ।

‎কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। তবে ঘাটতি থাকলে তা মেটাতে ঋণ নিতে হয়।

‎অপরদিকে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা গেছে, যা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

‎আর্থিক হিসাব করা হয় বিদেশি ঋণ ও সহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং পোর্টফলিও ইনভেস্টমেন্টের পরিসংখ্যানগুলোর যোগ বিয়োগ করে।

‎বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে আমদানি দায় পরিশোধে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এই তিনটি উপাদান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কেন বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবের ঘাটতি একযোগে কমেছে। তিনি আরো বলেন, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবাহ সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন