আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান—টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মানসম্পন্ন ও বিজ্ঞানসম্মত পরিসংখ্যান, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ জননীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরিসংখ্যানের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, কোনো অবস্থাতেই তথ্যের বিকৃতি হতে দেওয়া হবে না। জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সহজলভ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই কার্যকর পরিকল্পনা, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ফিরোজ সরকার বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস এবং সুষম ও টেকসই উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে মানসম্মত ও সময়োপযোগী পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে আধুনিক, দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে নীতি বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিসংখ্যানের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা-কর্মচারী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


