সরকারকে বিকেএমইএর সুপারিশ

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে

শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

বিজ্ঞাপন

এ দিন ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এক সভায় ব্যবসায়ী সংগঠন ও গণমাধ্যমের ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সভা হয়।

বিকেএমইএর প্রস্তাবনায় বলা হয়, পোশাকশিল্পের জন্য প্রণীত বৈদেশিক, অর্থনৈতিক ও সমাজকল্যাণ নীতি এবং জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অর্থ, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও বেইজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এ কমিটি পোশাক ও শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির সুপারিশ—কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিকেএমইএ। বলেছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, শিল্পের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানির চাহিদা পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিকেএমইএর সুপারিশে বলা হয়, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন বা বিদ্যমান নীতি সংস্কারের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, শিল্পের বাস্তবতা, বিদ্যমান ব্যবসায়িক অবকাঠামো ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করা হলে এর বাস্তবায়ন সহজ হবে। পাশাপাশি নতুন নীতিমালা কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যৌক্তিক প্রস্তুতিমূলক সময় বা ‘রিজনেবল ট্রানজিশন পিরিয়ড’ দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

এনবিআরের রাজস্ব, কর, কাস্টমস, ভ্যাট এবং আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে কার্যকর ডিজিটালাইজেশনের সুপারিশ করে বিকেএমইএ বলেছে, এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া দেশের বিদ্যমান অবকাঠামো, শিল্প খাতের বাস্তবতা, সক্ষমতা এবং অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড সময়োপযোগী সংশোধন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠনটি। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে পোশাকশিল্পের নীতিনির্ধারণে সমন্বয় বাড়বে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে এবং শিল্পের টেকসই বিকাশের পথ আরও সুগম হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন