২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
চলতি করবর্ষ থেকে আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এনবিআর। ২০২৬-২৭ করবর্ষে জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা নীট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া রিটার্নের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।
এনবিআর ২০২১ সালে অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করে। পরে গত করবর্ষ থেকে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এনবিআর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে করদাতারা এখন ঘরে বসেই বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত, দাখিল এবং প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন নিয়ে কাগজে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এনবিআরের ই-ট্যাক্স প্ল্যাটফর্মে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

