বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেল ইউসিবি

স্টাফ রিপোর্টার

বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেল ইউসিবি

গত পাঁচ মাস ধরেই ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) শেয়ারের দর অভিহিত মূল্যের (১০ টাকা) চেয়ে কম দরে স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ারের সবশেষ বাজারদর ছিল ৯ টাকা। কিন্তু বাজারদরের চেয়ে ১ টাকা বেশি মূল্যে অর্থাৎ ১০ টাকা মূল্যে রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে ব্যাংক খাতের এই কোম্পানিটি।

আজ বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ইউসিবির রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়েছে, ইউসিবি ব্যাংকের ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ১:২ হারে অর্থাৎ ২টি বিদ্যমান শেয়ারের বিপরীতে ১টি রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। প্রতিটি রাইট শেয়ারের মূল্য হবে ১০ টাকা। রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। এই মূলধন সংগ্রহ করলে কোম্পানিটির মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২ হাজার ৩২৫ কোটি ৫৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩০ টাকা।

বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির মুখপাত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, রাইট শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটাররা শতভাগ শেয়ার কেনার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কেউ যদি রাইট শেয়ার ক্রয় না করেন, তাহলে আন্ডাররাইটাররা সেগুলো কিনবেন। ফলে বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করা হলেও এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।

অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দরে অর্থাৎ ডিসকাউন্ট রেটে রাইট শেয়ার ইস্যুর কোনো সুযোগ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি করতে হলে কোম্পানি আইনসংক্রান্ত বেশ কিছু বিধিবিধান পরিপালন করতে হতো। যেহেতু আন্ডাররাইটাররা শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছেন, সেজন্য রাইট শেয়ার ইস্যুতে সেসব বিধিবিধান পরিপালনের বিষয়টির প্রয়োজন পড়েনি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে ইউসিবি ব্যাংক ১:১ হারে রাইট শেয়ার ইস্যু করেছিল। দেড় দশক পর ব্যাংকটি আবার রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে। তবে প্রায় প্রতিবছরই লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ব্যাংকটি মূলধন বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে নতুন করে রাইট শেয়ার ইস্যুর কারণে মূলধন বর্তমানের তুলনায় দেড় গুণ বাড়বে; এতে করে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্যও কমে যাবে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল মাত্র ১৫ পয়সা। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ইউসিবি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে।

এ ধরনের একটি কোম্পানির রাইট শেয়ার ইস্যুর যৌক্তিকতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংকটের কারণে ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের কী অবস্থা হয়েছে এ ব্যাপারে সবাই অবগত। এখন ব্যাংকটি যাতে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য মূলধন জোগান দেওয়ার লক্ষ্যে এই রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন:

‘ব্লু ওয়েলথ ফার্স্ট স্ট্যাবল রিটার্ন ফান্ড’ নামে একটি বেমেয়াদি ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। আজ বিএসইসির কমিশন সভায় ফান্ডের প্রসপেক্টাস ও খসড়া প্রসপেক্টাসের সারসংক্ষেপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফান্ডটির প্রাথমিক আকার ৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ব্লু ওয়েলথ অ্যাসেট লিমিটেড ৩ কোটি টাকা প্রদান করেছে। বাকি ২৭ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ব্লু ওয়েলথ অ্যাসেট লিমিটেড। ফান্ডের ট্রাস্টি এবং কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে যথাক্রমে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...