পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌ-রুট দৌলতদিয়া–পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে ক্ষোভ ও দুর্ভোগ বাড়ছে ঘাট এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জিরো পয়েন্ট থেকে কয়েকশ যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন চালক-সহকারী ও যাত্রীরা।
মেহেরপুর থেকে ছেড়ে আসা ভুট্টাবোঝাই ট্রাকের সহকারী লালন আমার দেশকে বলেন, ‘রাত ১টার সময় ঘাটে এসেছি। এখন সকাল সাড়ে ৯টা বাজে, এখনো ফেরির নাগাল পেলাম না। জানি না আর কত সময় এভাবে ঘাটে বসে থাকতে হবে।’
কুষ্টিয়া থেকে আসা আরেক ট্রাকচালক ছোবাহান আমার দেশকে বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে ঘাটে এসে দেখি দেড় থেকে দুই কিলোমিটার সিরিয়াল। সারা রাত জেগে ধীরে ধীরে এগোচ্ছি। কখন ফেরি পাব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ধীরগতিতে চলছে। ঘাটে ভিড়তে এবং নদী পার হতে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আমার দেশকে বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো পারাপারে বেশি সময় নিচ্ছে। ঘাটে ভিড়তেও সময় লাগছে। তবে গতকালের তুলনায় ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১০টি ফেরি চলাচল করছে। এতে যানবাহনের সিরিয়ালও কিছুটা কমছে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবাসহ যাত্রীবাহী ও পচনশীল পণ্যবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং পারাপার স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঘাটে অপেক্ষমাণ চালক-সহকারী ও যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফেরির কারণেই পারাপার ধীরগতির হচ্ছে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে এসব ফেরি স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পারায় সংকট আরও বাড়ছে বলে তাদের দাবি। দ্রুত আধুনিক ও সক্ষম ফেরি সংযোজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় নদীর স্রোত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

