আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট মূল্যস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় বাজেটে প্রায় ৬০টি পণ্যের করহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে উৎসে কর ১ শতাংশ, ২ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ হারে আদায় করা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এসব হার কমিয়ে এককভাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে বাজারে পণ্য সরবরাহের ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কর সুবিধার আওতায় থাকা পণ্যের তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ। একই সঙ্গে প্রাণিজ আমিষের জোগান বৃদ্ধির লক্ষ্যেও গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছকে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আরো বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিলো, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে করের বোঝা কমলে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এর প্রভাব পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। করহার কমানোর ফলে প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি এর সুবিধা পাবেন। তবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

