জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

জামায়াতের বিক্ষোভে হাড়ি-পাতিল হাতে নারীরা

জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারীরা হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। বিকেল ৩টায় উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখানে আসিনি। এসেছি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে গিয়ে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যায়। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে মানুষের আয় বাড়ছে না।’

জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশ চালাতে পারছেন না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুললে এবং আপনাদের ওপর আস্থা না থাকলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।’

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি অন্যায় নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বুঝলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করতে হতো না, একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না।

তিনি শ্রমিকদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং যথাসময়ে বেতন পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগ না করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত এবং আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিনসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন