কোহাসের সচেতনতামূলক সভায় নূরুন্নিসা এমপি

নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে

নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে

নারীদের অন্যতম প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সার জরায়ুমুখ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে কোমল হাতের সম্মিলন (কোহাস)-এর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে "জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে জানি, রোগ প্রতিরোধ করি" শীর্ষক সভায় সভাপতিত্ব করেন কোহাসের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন লাভলী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজসেবী নূরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, সুস্থ পরিবার ও সুস্থ সমাজ গঠনে নারীর সুস্বাস্থ্য অপরিহার্য। তাই নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে আরও জোরদার করতে হবে। নারীদের নিজেদের পুষ্টির সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন আর কোহাসের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোহাসের উপদেষ্টা আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, নারী স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক বিষয়। "সুস্থ নারী যারা, জরায়ুর মুখ পরীক্ষা করবে তারা " স্লোগানটি সকলকে আবার মনে করিয়ে দেন। নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলকে আহ্বান জানান ।জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোহাস ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. আয়েশা সিদ্দিকা পুরবী। তিনি জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণ, ঝুঁকির লক্ষণ, ভায়া(VIA)) ও এইচপিভি পরীক্ষার গুরুত্ব, এইচপিভি ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংই পারে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।

অনুষ্ঠানে কোহাসের সভানেত্রী ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব শামীম সারা খান বলেন, একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে স্বাস্থ্যশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

প্রশ্নোত্তর পর্বে- উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রফেসর বেগম রোকেয়া আনোয়ার, প্রফেসর শিরিন আক্তার এবং প্রফেসর নাঈমা মোয়াজ্জেম। তাঁরা জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ জীবনাচার এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কোহাসের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহানা পারভীন লাভলী বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা সময়মতো সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং এইচপিভি টিকা গ্রহণের মাধ্যমে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি নারীদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্য নারীদেরও উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সুরাইয়া সিদ্দিকা'র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে, একটি সচেতনতামূলক নাটিকা পরিবেশিত হয়। যেখানে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের লক্ষণ, অবহেলার পরিণতি এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাটিকার উপস্থাপন শৈলী বিষয়টির গুরুত্ব সাবলীল ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালমাসহ নারী সমাজসেবী, শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন