রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদ ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতা লাকি আক্তার শাহবাগে কর্মসূচি ঘোষণার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা লাকি আক্তারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের লাকি আক্তারের মাধ্যমে আওয়ামী ও ছাত্রলীগ পুনরায় ফেরার চেষ্টা করছে এবং আরেকটি শাহবাগ কায়েম করতে চাচ্ছে। তাই তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রথমে হলপাড়ায় জড়ো হন।

এসময় তারা লাকি ও শাহবাগী চেতনার বিরুদ্ধে ‘এক দুই তিন চার, শাহবাগী নো মোর,’ ‘জ্বালো রে জ্বালো’ আগুন জ্বালো,’ ‘শাহবাগের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে,’ ‘আমার সোনার বাংলায়, শাহবাগীর ঠাঁই নাই’ ‘সারা বাংলায় খবর দে, শাহবাগের কবর দে,’ ‘শাহবাগী হামলা করে, ইন্টেরিম কি করে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের বলেন, চবিশের বাংলায় শাহবাগের ঠাঁই নাই। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তারা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের পুলিশ ভাইদের উপর হামলা করেছে। আমরা বেঁচে থাকতে এই বাংলাদেশে শাহবাগীদের স্থান হবে না।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সোয়াইব হোসেন বলেন, শাহবাগ পুনরায় ফেরার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমরা শাহবাগীদের বলতে চাই, নতুন বাংলাদেশে শাহবাগ ও গণজাগরণ মঞ্চের কোনো জায়গা হবেনা। তারা যদি কোনো অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে চেষ্টাও করে আমরা তাদের কালোহাত গুঁড়িয়ে দেবো।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শাহবাগীরা দেখো আমরা লুঙ্গি পড়ে চলে আসছি। আপনারা দেশের আইনশৃঙ্খলাকে বিনষ্ট করার জন্য আজকে পুলিশের উপর হামলা করেছেন। অতি দ্রুত লাকিসহ সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাসিনা থেকে শিক্ষা নেন। না হলে আর একটি গণঅভ্যুত্থান দেখতে পাবেন।
এদিকে লাকি আক্তারের মশাল মিছিলে অংশ নিয়ে শাহবাগে কর্মসূচি ঘোষণা করায় গণজাগরণ মঞ্চের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এবিষয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলতে দেখা গেছে। ইনকিলাব মঞ্চ নামে সংগঠনটির এর প্রতিবাদে আজ বিকেলে শাহবাগে মানববন্ধন ডেকেছে।
এবিষয়ে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শাহবাগের মাধ্যমেই হাসিনার ফ্যাসিজমের উত্থান এবং পূর্ণতা। লাকিরা ছিল আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসার ইনভেস্টমেন্ট ও রক্ষাকবচ। বাংলাদেশপন্থী ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজনের সুযোগ নিচ্ছে দেশবিরোধী শক্তি। তারাই শাহবাগের বিচারহীনতা ও ফ্যাসিবাদের আইকন লাকি আক্তারকে পুনর্বাসন করছে।
এঅবস্থায় শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ-২ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। দ্বিতীয় গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। পাশাপাশি তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশ ও ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে মিছিল নিয়ে যাওয়া বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ আন্দোলনকারীদের কয়েকজন আহত হন।
পরে সন্ধ্যায় এক মশাল মিছিলে অংশ নিয়ে লাকি আক্তার বলেন, দেশজুড়ে মানুষ ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে এ সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে তার ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এসময় ধর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিরসনের দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টায় শাহবাগে গণমিছিল আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি ৷ এই গণমিছিলে সাধারণ মানুষকে মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আওয়ামী মদদপুষ্টে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের পরিচিত মুখ ছিল লাকি আক্তার। সেসময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

