সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভরতার দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ও সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্বাবলম্বী হওয়াই একটি জাতির টিকে থাকার প্রধান শক্তি। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হতে পারে আমাদের টেকসই উন্নয়নের উপায়।
সোমবার ঢাকার বেইলী রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে চয়নিকা আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তি ও ১লা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষ্যে 'চয়নিকা নারী উদ্যোক্তা উৎসব ২০২৬' এর উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা তামান্না রহমান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববরেণ্য ফ্যাশন আইকন ও ইউনেস্কো আর্টিস্ট ফর পিস বিবি রাসেল।
নারী উদ্যোক্তাদের দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী চালিকাশক্তি উল্লেখ করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নারী উদ্যোক্তারা কুটির শিল্প, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, ফ্যাশন, হস্ত শিল্প, ফুড প্রসেসিংসহ অন্যান্য ছোট ছোট কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছেন। এভাবে তারা শুধু নিজের পরিবারকেই স্বাবলম্বী করছেন না, তারা দেশের স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বাজার তৈরির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মন্ত্রী তার নিজের নির্বাচনী এলাকাসহ সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা উল্লেখ করে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুব কম। গ্রামের মানুষদের কীভাবে কর্মোপযোগী করা যায়, গ্রামে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত কীভাবে সহজ প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
নারী উদ্যোক্তারা এই ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কার্যক্রম শুধুমাত্র শহরকেন্দ্রিক না হয়ে যেন তৃণমূলের নারীদের সম্পৃক্ত করা হয় যাতে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসারিত হয়। তারা যাতে ঘরে বসেই তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সর্বপ্রথম গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই সাথে আধুনিকতার মাঝে হারিয়ে না গিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বকীয়তাও ধরে রাখতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ যাতে সংকুচিত না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, তাঁত শিল্প যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে তিনি উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে নজর রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিবি রাসেল তার বক্তৃতায় সকল নারী উদ্যোক্তাদের দেশীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমার অনুপ্রেরণার উৎস বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। এই দেশের মানুষ আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে বলেই আমি ফ্যাশনে উদ্যোগী হয়েছি এবং সফল হতে পেরেছি। মডেলিং আমাকে পুরো পৃথিবী দেখিয়েছে যার মাধ্যমে আমি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি জেনেছি। তবে কখনো নিজস্বতা হারিয়ে ফেলিনি। আমার সকল কাজের মাধ্যমে সবসময় দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দেশের তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান এবং অন্য কোনো দেশের কোনো সংস্কৃতিকে নকল না করে নিজের দেশের সংস্কৃতিকে কাজের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করার পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকা লেডিস ক্লাবের সভাপতি আনিসা হক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চয়নিকার কর্ণধার এস বি বিপ্লব।
তিন দিন ব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের আজ ছিলো প্রথম দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক কবুতর অবমুক্তকরণ, উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশনা এবং নৃত্য পরিবেশনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উৎসবের স্বাক্ষর বোর্ড উদ্বোধন করেন এবং নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টা ও মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ সনদপত্র বিতরণ করেন।
উল্লেখ্য নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ মহিলা সমিতির মেলা প্রাঙ্গণে তাদের দেশীয় পণ্য নিয়ে বিভিন্ন স্টল প্রদর্শনীর মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

