আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর আদর্শিক উত্তরাধিকার ও বর্ণাঢ্য অবদান এবং সব শহিদ, মজলুম ও আহতদের স্মরণে রাজধানীতে ‘উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স (এনইউএ), ঢাকা মহানগর উত্তর-এর উদ্যোগে রাজধানীর আফতাবনগরের আলোকায়ন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশন বিকেল ৩টায়, দ্বিতীয় অধিবেশন বাদ আসর এবং তৃতীয় অধিবেশন বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হয়। প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির মাওলানা ত্বহা মাহমুদ ও ফেরদৌস আহমদ শুভর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা ইলিয়াস হাসান নোমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী। তিনি বলেন, আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বীনি ও জাতীয় জীবনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও আমানত ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

‘ওলামায়ে কেরামকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনীতির ময়দানে ভূমিকা রাখতে হবে’

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী রাজনীতির স্বার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় যদি আমরা ওলামায়ে কেরামকে সমন্বিত করতে না পারি, তবে মূলধারার রাজনীতি কোনো না কোনো কৃত্রিম সংকট বা দুর্ভিক্ষের আড়ালে পণ্ড হয়ে যাবে।”

মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—বাংলাদেশ যখনই কোনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়েছে, তখনই এ দেশের ওলামায়ে কেরাম ও ছাত্র-জনতা দেশ ও জাতির হাল ধরেছেন। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে তাঁরা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর ‘এক হও, এক হও’ আহ্বান স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের কায়েদে মিল্লাত আল্লামা বাবুনগরী (রহ.)-এর আদর্শ ও ছায়াতলে রেখে কাজ করে যাচ্ছি।”

কোনো কুচক্রী মহল যেন বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার কখনো বিসর্জন দেব না; আমাদের আকাবিরগণ কখনো বিক্রি হননি, হবেনও না।”

আল্লামা শফীর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আজিজুল হক

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী তাঁর বক্তব্যে আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর বৈচিত্র্যময় জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আল্লামা শফীর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উপস্থিত সবাইকে বুজুর্গদের জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথচলায় এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানান মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) শুভসূচনা ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামিক চিন্তাবিদ খালেদ সানোয়ার বলেন, আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর রেখে যাওয়া আদর্শ ও অবদান থেকে বর্তমান প্রজন্ম অনেক কিছু অর্জন করেছে। তাঁদের ত্যাগ, নৈতিকতা ও আদর্শের বরকতেই আজকের অনেক অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতি ও নেতৃত্বের ময়দান অত্যন্ত কঠিন ও পিচ্ছিল পথ। তাই আবেগ দিয়ে নয়, সঠিক ফাহাম ও গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হতে হবে।

শাপলা চত্বরের ঈমানী চেতনা ও ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয়ের চেতনাকে ধারণ করে নতুন আদর্শে আত্মগঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর খলিফা মুফতি ইনআমুল হাসান ফারুকী। চীনে অবস্থানরত মুফতি ইনআমুল হাসান ফারুকী অসুস্থ অবস্থায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) ছিলেন এক অনন্য ও আপসহীন নেতা। তিনি ও তাঁর সমকালীন মনীষীরা আজীবন বাংলাদেশের ঈমানী ও রাজনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর সঙ্গে তাঁর স্নেহ ও সান্নিধ্যের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরে মুফতি ইনআমুল হাসান ফারুকী বলেন, এসব মনীষীর পুরো জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ। তাঁদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও কর্মপদ্ধতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে উপস্থিত সবার কাছে তাঁর আশু আরোগ্যের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর খাদেম মুফতি এনামুল হক শহিদবাড়িয়া।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাইখ উসমান গণি, মাওলানা হুসাইন আকন্দ, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ আফিফ, মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন, মাওলানা তামীম উদ্দিন, মাওলানা আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা, মাওলানা মুআবিয়া বিন হেমায়ত উদ্দিন, মাওলানা কাজী মাহবুব, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা জুহাইর হুসাইন রিয়াজ, মাওলানা নোমান হাসান, মাওলানা শাহীন আহমদ, মাওলানা জিকরুল্লাহ, মাওলানা ফারহান আব্দুল্লাহ, মাওলানা আফনান, মাওলানা সালাউদ্দিন মাসরুরসহ আরও অনেকে।

আলোচনা সভায় আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর আদর্শিক উত্তরাধিকার, তাঁদের দ্বীনি ও সামাজিক অবদান এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন