বৈষম্যহীন দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষে সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকরা রাজপথে ছিল। আমরা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম সেটা ইউনুস সরকার বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আপামর জনতা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এখনো বিভিন্ন সেক্টরে সেই বৈষম্য করা হচ্ছে। বৈষম্যহীন দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লড়াই জারি রাখতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লবে প্রতিদিন আমরা রাজপথে ছিলাম। ৩ তারিখে কাউকে যখন রাজপথে নামতে দেয়নি তখন শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে আমার রাজপথে ছিলাম। ৪ তারিখে আমরা সাংবাদিকদের নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিলাম। সেই সমাবেশে আমাদের উপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। সেদিন সাংবাদিকরা বাঁচার জন্য প্রেসক্লাবে ঢুকতে চাইলে ফ্যাসিস্টের কিছু দোসর আমাদের ঢুকতে দেয়নি। আজকের প্রতিটি সাংবাদিক ছিলেন জুলাইয়ে যোদ্ধা। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সরকার যাদের জুলাই যোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেছে তাদের কয়েকজন ছাড়া কাউকে আমরা চিনি না। এর মাধ্যমে আপনারা কার স্বার্থ রক্ষা করতে চান।
সাংবাদিকদের সুরক্ষার আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল সাগর রুনি হত্যার বিচার হবে। এক বছর পিরিয়ে গেলেও কোন অগ্রগতি দেখা যাযনি। সাগর ভূমি হত্যার বিচার নিয়ে টালবাহানা হচ্ছে। আমরা সাংবাদিকদের সুরক্ষার আইন চেয়েছিলাম। এক বছরে ও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আজ পর্যন্ত সেগুলো বাতিল করা হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম বৈষম্যহীন সমাজ। কিন্তু উল্টা মব জাস্টিস শুরু হয়েছে। আমরা এগুলোর জন্য জীবন দেইনি। আমরা ভেবেছিলাম গণতন্ত্র ফিরে আসবে পূর্ণরূপে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ১৭ টি বছর ভোট দিতে পারেনি। এক বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংস্কারের কথা শুনে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছরে তেমন সংস্কার পরিলক্ষিত হয়নি। আপনাদের কিছু কিছু উপদেষ্টার বক্তব্য আমাদের হতাশ করে। গতকাল এক উপদেষ্টা বললেন ১/১১ আসতে চায়। এই দেশে কখনো ১/১১ আসতে দেওয়া হবে না।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তৈরির জন্য অনেক প্রাণ ঝরেছে। গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছে। আমাদের মূল লড়াই হল গণতন্ত্র সুসংহত, গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করা। সুষ্ঠু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং ফ্যাসিবাদের বিচার কার্যকর করা। এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। যেখানে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী মাথা ছাড়া দিয়ে উঠতে যাবে সাংবাদিকদের সেখানে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যখন শেখ হাসিনা এবং তার দোসররা দেশ থেকে পালিয়ে যায় তখন আমরা ধরে নিয়েছিলাম দেশে বড় পরিবর্তন হবে। গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এই বিপ্লবী সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সিনিয়র সহসভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, বিএফইউজে সহ- সভাপতি খাইরুল বাশার ও সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

