চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ২৪ ঘণ্টা পরও কাটেনি শঙ্কা, থমকে আছে বাণিজ্যিক এলাকা

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ২৪ ঘণ্টা পরও কাটেনি শঙ্কা, থমকে আছে বাণিজ্যিক এলাকা

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের পরও কাটেনি শঙ্কা। মঙ্গলবার দুপুরে ভবনটির ষষ্ঠ তলা থেকে থেমে থেমে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে তখনো কাজ করছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। অন্যদিকে আগুনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করতে পারেনি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে আশপাশের সড়ক বন্ধ রয়েছে, তালা ঝুলছে মার্কেটগুলোতে। পূবালী ও রূপালী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রমও বন্ধ দেখা গেছে। প্রতিদিনের ব্যস্ত চকবাজার যেন হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত মনসুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ না হওয়ায় ভবনটিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কাজ অব্যাহত রাখতে হয়।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে দেখা যায়, ভবনটির ষষ্ঠ তলা থেকে থেমে থেমে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আগুনের অবশিষ্ট উত্তাপ এবং পুড়ে যাওয়া মালামালের ভেতরে আগুন জ্বলতে থাকার আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ছিটানো ও বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

বন্ধ সড়ক, থমকে বাণিজ্যিক এলাকা

অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। চক সার্কুলার চৌরাস্তা থেকে পূর্ব দিকের সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে এলাকার মার্কেটগুলোও। পূবালী ও রূপালী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ দেখা গেছে। এতে প্রয়োজনীয় কাজে আসা মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

প্রতিদিন যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং যানবাহনের চাপে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের পর নেমে এসেছে অস্বাভাবিক নীরবতা। দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি সড়ক বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রেতা ও পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

সিআইডির তদন্ত শুরু হয়নি

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট তদন্তকাজ শুরু করতে পারেনি। তখনো ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং ফায়ার সার্ভিসের নির্বাপণ কার্যক্রম চলছিল। আগুন পুরোপুরি নেভানো ও ঘটনাস্থল নিরাপদ হওয়ার পর তদন্তকাজ শুরু হতে পারে।

ভবনটির ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গুদাম ছিল। সেখানে ছাতা, প্রসাধনী, আতর ও আতরের বোতলসহ নানা পণ্য মজুত ছিল বলে জানা গেছে। গুদামের শাটার ও একাধিক তালা বন্ধ থাকায় আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। আগুনে ষষ্ঠ তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলারও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ হয়নি

অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সেটিও তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় থাকলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন