আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহারসহ ৫ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহারসহ ৫ দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারসহ সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহারপূর্বক দপ্তর পুনর্বণ্টন করা। অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজন করা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা। অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন দ্রুততম সময়ে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেশন) বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ একে স্বাগত জানিয়েছে। এই রেইনবো নেশনের বনিয়াদ মজবুত করার লক্ষ্যে সরকারের উচিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং দপ্তর পুনর্বণ্টন করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তারা প্রত্যাশা করছেন, ২০০১ সালে চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেমন রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সচল রাখতে বিচক্ষণ ভূমিকা রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, আদিবাসী অধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন প্রমুখ।

সম্মেলনে যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এক দশকের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ছোট মন্ত্রণালয়। এখানে মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি একজন অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী ও সেটেলার বাঙালিদের মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান। সেই বিরোধকে টিকিয়ে রেখে পাহাড়কে অশান্ত করার কোনো চিন্তা আমরা করতে চাই না। কাজেই এই চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নই হবে এ এলাকায় শান্তি ও স্তিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উদ্যোগ।

মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পরে গঠিত হয়েছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ক, খ, গ ও ঘ্তএই চারটি খণ্ডে মোট ৭২টি ধারা রয়েছে। চুক্তির ১৯ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে। কাজেই সেটিকেই আমাদের মানতে হবে এবং যাই করিনা কেন সেটা যেন চুক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।

দীপায়ন খীসা আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় পার্বত্য জেলা পরিষদে সর্বাধিক বিভাগ ও দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছিল। বিএনপি বর্তমান নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান পাহাড় ও সমতলের সকল মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে রেইনবো নেশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কাজেই আমরা আশা রাখবো আগামীতে এ বিষয়গুলোর প্রতিফলন সরকারের কর্মসূচীতে থাকবে। সরকার ঘোষিত অঙ্গীকার ও চুক্তির বিধানসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত থাকার সময় থেকেই আমি পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম যাতে পাহাড় ও সমতলের মানুষের সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন