ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি ড্রোন বিধ্বস্ত

ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সৌদি ড্রোন বিধ্বস্ত

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, দেশটির আল-জাওফ প্রদেশের আকাশসীমায় সৌদি আরবের ব্যবহৃত একটি তুরস্কে নির্মিত বায়রাক্তার আকিঞ্জি সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (স্থানীয় সময়) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, ড্রোনটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার সময় উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে ভূপাতিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত এবং এ ধরনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এর আগে শনিবার ইয়াহইয়া সারি আরো দাবি করেন, সৌদি আরবের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে ইয়েমেনের বাহিনী দুটি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথম অভিযানে জিজানে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে ইয়ানবু অঞ্চলে আরামকো-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করা হয়।

ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, উভয় অভিযানে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে ‘নির্ভুল ও সরাসরি’ আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা-এর প্রধান নাসের আল-আমের বলেন, সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইয়েমেন ‘উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ জানাবে। তিনি বলেন, ইয়েমেনের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় এবং সৌদি আরবকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

এর আগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ঘোষণা দেয়, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। তাদের দাবি, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি বেসামরিক উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিট আগে সৌদি বিমান হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানে রোগী, আহত ব্যক্তি, প্রবাসী ইয়েমেনি এবং একটি শোকানুষ্ঠান শেষে ফেরা প্রতিনিধিদল ছিলেন, ফলে বিমানটিকে হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হতে হয়।

পরে ইয়েমেন ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি, এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে সৌদি কোম্পানির জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অন্যদিকে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরো অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব হোদেইদাহ প্রদেশ ও কামারান দ্বীপের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ, বন্দরের জবাবে বন্দর এবং উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা’—এই নীতিতেই তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

তবে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে ড্রোন ভূপাতিত করা, আরামকোর স্থাপনায় হামলা কিংবা অন্যান্য সামরিক অভিযানের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: আল মায়াদীন

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন