তাহসিফ হত্যা মামলা: বাবার মামলায় গ্রেপ্তার দীপ, আদালতে পাঠাচ্ছে নৌ-পুলিশ

তাহসিফ হত্যা মামলা: বাবার মামলায় গ্রেপ্তার দীপ, আদালতে পাঠাচ্ছে নৌ-পুলিশ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ছবি: সংগৃহীত

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তার বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দায়ের করা এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজত থেকে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলাটি তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।

শনিবার নৌ-পুলিশের মিডিয়া শাখার পুলিশ সুপার মাসুমা আক্তার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে পিবিআইয়ের হেফাজত থেকে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাহসিফের বাবার দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। মামলা নম্বর ১৩ (১০)। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় হত্যার পাশাপাশি আলামত গোপন ও পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নৌ-পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ আলম। পিবিআই সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ১টার দিকে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, দীপের সঙ্গে দেখা করে ফিরবেন। বাসার সিসিটিভি ফুটেজে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দীপকে গ্যারেজে আসতে এবং ৬টা ৩১ মিনিটে দুজনকে আলাদা মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়। এরপর থেকে তাহসিফের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। তাতে বলা হয়, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ এটিই ছিল পরিবারের কাছে পাওয়া তার শেষ বার্তা। এর কয়েক ঘণ্টা পর টঙ্গীর তুরাগ নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা। গত বৃহস্পতিবার রাতে পিবিআই ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। তিনি নিজে পালিয়ে যান। তবে ধাওয়াকারীরা কারা ছিলেন বা তারা পুলিশের সদস্য কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া তথ্য সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের পোশাক দেখে দীপ ও তাহসিফ তাদের পুলিশ ভেবে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পিবিআইয়ের কাছে দীপের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম। তার দাবি, ছেলেকে হত্যা করে লাশ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তার ছেলে নদে ঝাঁপ দিয়েছেন—দীপের এমন বক্তব্যও অবিশ্বাস্য বলে মনে করেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...