এমপিও ও বেতন ছাড়ের দাবিতে অনশনে অসুস্থ ইবতেদায়ি শিক্ষকরা

স্টাফ রিপোর্টার

এমপিও ও বেতন ছাড়ের দাবিতে অনশনে অসুস্থ ইবতেদায়ি শিক্ষকরা

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এমপিও বাস্তবায়ন ও বকেয়া বেতন ছাড়ের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। এরই মধ্যে প্রচন্ড গরমের মধ্যে অনাহারে ছয়জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দাবি আদায়ে গত রোববার সকাল ১০টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেন মঙ্গলবার বিকালে আমার দেশকে বলেন, আজ প্রচন্ড গরমের মধ্যে অনাহারে শরীরে পানি শূন্যতায় ছয়জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে অনশনস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, বৈষম্যের শিকার অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা যৌক্তি দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসলেও এ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, আমরণ অনশনে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের অবস্থা ভালো নয়, এ অবস্থায় শিক্ষকদের কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

এর আগে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির উদ্যোগে গত ২১ মে থেকে গত শনিবার নাগাদ শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেও দাবি আদায় না হওয়ায় গতকাল রোববার থেকে শিক্ষকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেনের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিক্ষক নেতারা অংশ নিচ্ছেন।

অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণ-বিজ্ঞপ্তির আলোকে গত বছর ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়নি। ফলে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন এবং ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ার পরও দীর্ঘ চার দশকে কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত বা জাতীয়করণ হয়নি। ১৯৯৪ সালে শিক্ষকদের ভাতা এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা হলেও মূল দাবি আজও পূরণ হয়নি।

২০১৩ সালে সরকার হাজার হাজার নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও স্বীকৃতি-প্রাপ্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করলে বিজয় সরণি এলাকায় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় গেলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটি শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সেই আশ্বাস এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।

এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতেও পুলিশ বাধা দেয়। পরে ৫ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি দলকে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ মেলেনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...