কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস সমিতি

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে প্রশ্ন, অর্থের হিসাব চান ব্যবসায়ীরা

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে প্রশ্ন, অর্থের হিসাব চান ব্যবসায়ীরা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় বৈধ নেতৃত্বের সংকট তীব্র হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে সদস্যদের মধ্যে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সমিতির অর্থের হিসাব, চাঁদা আদায়, উন্নয়ন কার্যক্রম ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নেই। অফিস সচিব সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ ও আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরের জেলা পরিষদ মার্কেটে সমিতির কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন বিএনপিপন্থি কয়েকজন ব্যবসায়ী।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন ছাড়াই সাবেক কমিটির পদত্যাগ দেখিয়ে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেয়। এ প্রক্রিয়ায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মহসিন মজুমদারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সভাপতি হন আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সহসভাপতি হন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং সাধারণ সম্পাদক হন বিএনপি নেতা সওকত হোসেন সোনা মিয়া। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন আজাদ শিকদার কানন। কার্যকরী সদস্য হিসেবেও বিএনপির একাধিক নেতা অন্তর্ভুক্ত হন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও নতুন নির্বাচন হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই এখনো সমিতির দায়িত্ব ধরে রেখেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণ সভা ও নির্বাচন না হওয়ায় সদস্যদের চাঁদা, সার্ভিস চার্জ এবং উন্নয়ন ফির অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তার জবাব মিলছে না। এতে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস আরো গভীর হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, অফিস সচিব সাইফুল ইসলাম সমিতির অর্থ তছরুপ ও আত্মসাৎ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সমিতির অর্থে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগও করেছেন ক্ষুব্ধ সদস্যরা।

অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, সচিব ছাড়াও তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে সমিতির সদস্য। মার্কেটে তার নিজের ও ছেলের ব্যবসা রয়েছে। সমিতির অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সম্মানীর বাইরে সমিতি থেকে তিনি কোনো টাকা নেননি।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৈধ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব না থাকায় তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। রাস্তা ও পার্কিং ব্যবস্থাপনা, পণ্য ওঠানামা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অগ্নিনিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।

সমিতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা নিয়মিত বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চার দশকের পুরোনো সমিতি

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড ঢাকা জেলা সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত একটি পুরোনো সমিতি। ১৯৮৯ সালে এলাকার কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার গার্মেন্ট কারখানা এবং পাঁচ লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান রয়েছে ।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এতবড় বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তাদের দাবি, সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে বিধি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন এবং আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হোক।

এ ব্যাপারে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। এরপর উপরের নির্দেশে নির্বাচনটি স্থগিত হয়। এরপর আর নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা সমবায় অফিসার মহসিন মজুমদার বলেন, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির মেয়াদ গত বছরের অক্টোবর মাসে শেষ হয়েছে। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ সভাপতিকে নির্বাচন আহ্বান ও আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য এ পর্যন্ত তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে অবৈধভাবে কমিটির সভাপতি পদ ধরে রেখেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন