এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এসএমই ঋণ সহজীকরণ’ সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশের আরো বেশি এসএমই উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনতে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়া চালু এবং সহজীকরণ জরুরি।
সোমবার এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য খালিদ মাহমুদ খান এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের বিএসইএ প্রোগ্রামের টিম লিডার সারা. এল. টেইলর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান।
আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, ডিজিটাল ব্যবসা পরিচালনা, উদ্ভাবনী আর্থিক সেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনায় উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ ভাগ হলেও দেশের ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র শতকরা ৯ ভাগ উদ্যোক্তা। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান আরো প্রায় শতকরা ১৪ ভাগ। বাকি প্রায় শতকরা ৭৭ ভাগ উদ্যোক্তাই এখনো ঋণের আওতার বাইরে।
বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জামানতের অভাব, পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা, প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের সীমাবদ্ধতা এবং প্রচলিত ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হন। ফলে সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বিকশিত হতে পারে না। এ প্রেক্ষাপটে এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ফিনটেকভিত্তিক উদ্ভাবনী আর্থিক সেবার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রচলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক, তথ্যভিত্তিক ও সহজলভ্য অর্থায়ন পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। মূল উদ্দেশ্য, উদ্যোক্তা ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগের ব্যবধান কমানো, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন-প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পারস্পরিক ধারণা তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করা, যা প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০% শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরা’র ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯% কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫% সিএমএসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০%-ই নারী-উদ্যোক্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


