স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (SUB)-এ ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ২৪তম এশিয়ান বায়োএথিক্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নৈতিকতা জাতি-রাষ্ট্র গঠনে টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি (Bioethics in Building Nation-States)” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বাংলাদেশ বায়োএথিক্স সোসাইটি (BBS) ও এশিয়ান বায়োএথিক্স অ্যাসোসিয়েশন (ABA)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইউবিওস এথিক্স ইনস্টিটিউট (নিউজিল্যান্ড, জাপান ও থাইল্যান্ড)’র সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে ১৩ জন বিদেশি প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০০ জন নীতিনির্ধারক, গবেষক, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ড্যারিল ম্যসার, প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ সোভেরিন নেশনস, যুক্তরাষ্ট্র; সচিব, এশিয়ান বায়োএথিক্স অ্যাসোসিয়েশন (ABA); অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, উপাচার্য, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ; এবং অধ্যাপক ড. সায়েবা আখতার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (BMRC).
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, টেকসই জাতি-রাষ্ট্র গঠনে নৈতিকতা কেবল নীতি নির্ধারণের বিষয় নয়; বরং এটি বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের জন্য অপরিহার্য ভিত্তি।
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. হালিদা হানুম আখতার, এমবিবিএস, এমসিপিএস, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান বলেন, “আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে সাফল্য আর শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা দায়িত্বশীলভাবে বিজ্ঞান পরিচালনা করে, পরিবেশ রক্ষা করে, মানব মর্যাদা নিশ্চিত করে এবং প্রজন্মগত ন্যায় বজায় রাখে, সেটিই আজ জাতি-গঠনের মূল সূচক। জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সময়ে নৈতিকতাভিত্তিক শাসনই টেকসই উন্নয়নের একমাত্র পথ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও স্বাস্থ্যসেবায় স্বায়ত্তশাসন, সমতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও বস্তি এলাকায় চিকিৎসা সিদ্ধান্তে পর্যাপ্ত অবহিতকরণের অভাব নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করছে”.
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. শামিমা পারভীন লাস্কার। তিনি বলেন, “বায়োএথিক্স হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এক বিশেষ শিল্প, যা গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি, যুদ্ধ, গণ-অভিবাসন, বৈষম্য ও সংঘাতের মতো বৈশ্বিক সংকটে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও শাসনব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তে বায়োএথিক্স একটি মৌলিক দিকনির্দেশক শক্তি হিসেবে কাজ করে”.
বাংলাদেশ বায়োএথিক্স সোসাইটি ২০০৯ সালে ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় অধ্যাপক ড. শামিমা পি. লাস্কার ও অধ্যাপক আরিফ হোসেন-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র বায়োএথিক্স সংস্থা। সংস্থাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নৈতিকতা ও নৈতিক চর্চা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। এটি একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, বহুমুখী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একাডেমিক নেতৃত্ব, বৈশ্বিক সংযোগ এবং নীতিনির্ভর গবেষণা ও আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

