আসন্ন জাতীয় বাজেট এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)–এর একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিএবি নেতৃবৃন্দ ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ (এনপিএল), মূলধন পর্যাপ্ততায় চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা, শাসন ব্যর্থতা, দীর্ঘ আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাস।
বিএবি জানায়, দেশের ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) বর্তমানে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এর ফলে শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।
প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর কাছে জোর দিয়ে উল্লেখ করে যে ব্যাংকিং খাতের অর্থবহ পুনঃমূলধনের জন্য শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আর্থিক ব্যবস্থায় সম্পদ ও শেয়ার ধরে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিএবি দ্রুত আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ ও শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
এছাড়া প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজোলিউশন কাঠামোর ধারা ১৮কে–র কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। বিএবি মনে করে, বিতর্কিত সাবেক স্পনসর বা বড় ঋণখেলাপিদের পুনরায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হলে তা আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর কাছে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যাংকগুলোর জন্য কর্পোরেট কর ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা; পাঁচ বছরের জন্য ঋণ ক্ষতির বিধানের পূর্ণ কর কর্তনযোগ্যতা; স্টক লভ্যাংশের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার; রাইটস শেয়ার ও পুনঃমূলধন উদ্যোগের দ্রুত অনুমোদন; এসএমই পুনঃঅর্থায়ন, সবুজ অর্থায়ন ও এলটিটিএফ সুবিধায় অব্যাহত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)–এর মধ্যে সমন্বয় জোরদার; দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আর্থিক আদালত এবং একটি কেন্দ্রীয় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন; ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিবারের সংজ্ঞা যৌক্তিকীকরণ; ডিজিটাল ইন্টারঅপারেবিলিটি ও বাংলা কিউআর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
বিএবি সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার, সুশাসন নিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবদুল হাই সরকার, রোমো রউফ চৌধুরী, শরীফ জহীর, মনজুরুর রহমান এবং রাশেদ আহমেদ চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


