ট্রাইব্যুনালে জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি

দুই হাত পিছমোড়া বাঁধা ও পেট ফাড়া ছবি দেখে নজরুলকে শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার

দুই হাত পিছমোড়া বাঁধা ও পেট ফাড়া ছবি দেখে নজরুলকে শনাক্ত

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত নজরুল ইসলাম মল্লিকের চাচা হাবিবুর রহমান মল্লিক।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার ভাতিজা বিডিআর সদস্য নজুরুল ইসলাম ২০১০ সালের ৩ মার্চ বাসা থেকে রেব হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে নজরুলের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম পত্রিকায় একটি লাশের ছবি দেখে তার ভাইয়ের লাশ হিসেবে শনাক্ত করে। জাহিদ ওই পত্রিকা আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। আমি ছবিতে দেখি নজরুলের লাশের দুই হাত পিছমোড়া করে বাঁধা এবং পেট ফাড়া।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বড় ভাইয়ের ছেলে নজরুল ইসলাম পিলখানায় বিডিআর হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী হিসেবে চাকরি করতো। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ হলে বিকেল ৩টা বা ৪টার দিকে নজরুল আমাদের ফোন দিয়ে জানায়, সে আর বিডিআর হাসপাতালে থাকবে না, সেখান থেকে বেরিয়ে যাবে। সে অনুযায়ী নজরুল সেখান থেকে বের হয়ে কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়। ৪ বা ৫ দিন পর নজরুল তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যায়। নজরুলের বাবা ফোনে নজরুলকে বিডিআরে যোগদানের বিষয়ে বললে নজরুল বলে সে বিডিআরে যোগদান করবো না, কারণ ঘটনার সাক্ষীদেরকে মেরে ফেলা হচ্ছে বলে শুনেছে।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে নজরুল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মধুমতি ক্লিনিকে চাকরি নেয়। এর কিছুদিন পর সে স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যায়। ক্লিনিকে চাকুরি নেওয়ার সময় নজরুল তার নাম পরিবর্তন করে নুরুল ইসলাম মুন্সী নামে চাকরি নেয়। ২০১০ সালের ৩ মার্চ বাসা থেকে রেব হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। নজরুলের স্ত্রী আমাদের সবাইকে ফোন করে জানায় নজরুল রাতে বাসায় ফিরেনি। পরদিন জানা যায়, নজরুল সহকর্মী রুহুল আমিনের সঙ্গে বের হলে সাদা পোশাকধারী ৬ বা ৭ জন লোক তাদের গতিরোধ করে রুহুল আমিনকে মারধোর করে একটি চোখ নষ্ট করে দেয় এবং নজরুলকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ।

জবানবন্দিতে হাবিবুর বলেন, পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও নজরুলকে পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১০ সালের ২০ বা ২২ মে ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির লোকেএসে জানায় বলেশ্বর নদীতে নজরুলের লাশ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে পুলিশ তার লাশ শরণখোলা থানায় নিয়ে গেছে। পরে শরণখোলা থানায় খোঁজ নিলে তারা জানায়, কোনো ওয়ারিশ না পাওয়ায় নজরুলের লাশ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বাগেরহাট গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এরপর আমি নিজেই লাশ ফেরত পাবার জন্য বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি। তিনি আমাদেরকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে জানান। ২০১০ সালের ২০ বা ২২ জুন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নজরুলের বাবা ও মাকে নিয়ে যেতে বলে। পরে সেখানে গেলে পরে বাবা-মায়ের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নজরুলকে শানক্ত করে। এরপর লাশ তুলে এনে পারিবারিক করস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে মাঝেমাঝেই গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আমাদের বাড়িতে আসতো এবং নজরুল সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করতো। আমরা বিভিন্ন লোক মারফত জানতে পারি র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের লোকেরা নজরুলকে হত্যা করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...