জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে যা বললেন নিহত সজলের মা

স্টাফ রিপোর্টার

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে যা বললেন নিহত সজলের মা

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত সজলের মা ভুলূ বেগম।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমি বাসা-বাড়িতে কাজ করি। আমার দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম আজাদ ও ছোট ছেলের নাম সজল। ২০১১ সালে ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় দুই ছেলে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতাম। বড় ছেলে বাসের হেলপার ছিল। ছোট ছেলে ইট-বালুর দোকানে কাজ করতো। ২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে আমার ছোট ছেলে সজল বাসায় এসে ভাত খেতে চায়। একটু পর বড় ছেলে আজাদও আসে। তারা দুজনে খাটে বসে টিভি দেখতে থাকে। আমি বলি ভাত হয়েছে কিন্তু তরকারি এখনো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে নিহত সজলের মা বলেন, একটু পর সজলের মোবাইলে একটি কল আসে। সে কথা বলতে বলতে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় আজাদ তাকে বলে ভাত খেয়ে যা। আজাদ আমাকে বলে তোমার ছেলে ভাত না খেয়ে চলে যাচ্ছে। আমি সজলকে জানালা দিয়ে ডেকে বলি ভাত খেয়ে যা। সজল বলে আমি একটু কথা বলে আসি, খাবার রেডি করো, এসে দুই ভাই একসঙ্গে খাবো। এরপর আমার সজল আর ফিরে আসেনি। আসরের নামাজ পর্যন্ত ভাত নিয়ে আমি সজলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। সজল ফিরে না আসায় আমি এবং আমার ছেলে আজাদ তাকে খুঁজতে বের হই। হাসপাতাল ও স্থানীয় থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে ৮/৯ দিন ধরে খুঁজতে থাকি। কিন্তু তাকে খুঁজে পাইনি। থানা-প্রশাসন আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

জবানবন্দিতে ভুলু বেগম বলেন, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই আমরা খবর পাই গাজীপুর এলাকার একটি হাসপাতালে দুটি লাশ পড়ে আছে। আমার ছেলে আজাদও জানায়, সেও এই খবর পেয়েছে। আমি আজাদকে বলি তুই গাজীপুর গিয়ে খোঁজ-খবর নে, সেখানে সজল আছে কি না। আজাদ তার এক বন্ধুকে নিয়ে গাজীপুর হাসপাতালে যায়। সেখানে গিয়ে সে সজলের লাশ দেখতে পায়। আজাদ আমার বোনের স্বামীকে ফোন করে সজলের লাশ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি জানায় এবং আত্মীয়-স্বজন নিয়ে সেখানে যেতে বলে। গাজীপুর থেকে সজলের লাশ আজাদ ও আমার অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনরা বুঝে নিয়ে ১৪ জুলাই জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আমার ছেলে সজল বিএনপির রাজনীতি করতো। মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতো। সাদেক হোসেন খোকা আমার ছেলেকে খুব পছন্দ করতো। আমি পরবর্তীতে জানতে পারি, রাজনীতি করার কারণে র‍্যাবের বড় অফিসার আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গাজীপুরে হত্যা করেছে। সাক্ষী এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার বিচারের দাবি জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...