রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায়

রাসেল লজ অবসায়নে আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায়

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সর্বোচ্চ বিচারিক আদালতে আপিল বিভাগের রায়ে ‘রাসেল লজ’ নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে সম্পূর্ণরূপে অবসায়নের নির্দেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই রায় গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর জন্য সতর্কতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাসেল লজ’ অবসায়নের এ রায়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রকাশ করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, বিচারিক আদালতে কথিত ডেভেলপার কোম্পানি ‘রাসেল লজের’ নথিপত্রে ব্যবহৃত যে ঠিকানাটি বারবার ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলো ‘সালেহা মঞ্জিল, ৫৯/৩ পুরানা পল্টন’। বৈধতার দাবিদার হিসেবে ব্যবহৃত ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, অডিট রিপোর্ট, সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক সনদে এই একই ঠিকানা দেখানো হয়। কিন্তু দেখা যায়, ওই ঠিকানায় বিগত এক যুগেও রাসেল লজ কোম্পানিটির কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বরং সেখানে এই রায় ঘোষণার দিন পর্যন্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও দখলদার, কথিত সাংবাদিক এনায়েত করিমের ছোট্ট পরিসরে একটি পত্রিকা অফিস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কার্যকলাপের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। অর্থাৎ কথিত সাংবাদিক এনায়েত করিম গংয়ের নির্মম প্রতারণা আড়াল করতেই এই তথাকথিত ডেভেলপার কোম্পানি রাসেল লজের নামসর্বস্ব ব্যবহার ও বায়বীয় ভৌতিক উপস্থিতি। অন্যের সম্পত্তিতে কোম্পানির সাইনবোর্ড টানিয়ে নিরীহ প্রবাসী ও দেশের বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী একটি স্বনামধন্য পরিবারবর্গের জীবনের মূল্যবান সম্পদ ও সময় নষ্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই রায়ে উন্মোচন হয়েছে কথিত সাংবাদিক এনায়েত করিম ও তার প্রধান সহযোগী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের এক স্থানীয় থানা পর্যায়ের নেতা বর্তমানে পলাতক এম এ কামালের ছত্রছায়ায় তারই বোনজামাই আলমগীর হোসেন। এই সিন্ডিকেটের তৃতীয় ব্যক্তি হচ্ছে বিলুপ্তপ্রাপ্ত কোম্পানি রাসেল লজের কথিত ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনিও একটি ফ্ল্যাট দখল করেছেন। বিগত দুই দশক ধরে অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলাবাজি করে আসার জন্য একজন উকিলকেও একটি ফ্ল্যাট দিয়ে রাখা হয়।

চুরি, চাঁদাবাজি, সশস্ত্র চাঁদাবাজি, ডাকাতি, প্রতারণা ইত্যাদি অসংখ্য মামলা মূল সম্পত্তির মালিক ভাষাসৈনিক ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক সৈয়দ আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে দিয়ে দেওয়া হয়। কথিত সাংবাদিক তার নিজ পত্রিকায় এই ৯০ বছরোর্ধ্ব অসহায় বৃদ্ধের বিরুদ্ধে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি কাহিনি ফেঁদে বসেন। পরবর্তীতে পিতার করুণ অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটিতে আসেন জ্যেষ্ঠ পুত্র চিকিৎসক সৈয়দ মোস্তফা মালেক (রুমি)। তার বিরুদ্ধেও একই জাতীয় হয়রানিমূলক ফৌজদারি মামলা দিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৯ সাল থেকে এই সিন্ডিকেটের কারণে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করে ২০২০ সালে আব্দুল মালেক সাহেব ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি ও সর্বদা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের পক্ষে ন্যায়ের দাবিতে চিকিৎসক মোস্তফা মালেক (রুমি) আজ অবধি তথাকথিত ডেভেলপার কোম্পানি অর্থাৎ এনায়েত করিম গংয়ের সকল অত্যাচার ও হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে আসছেন।

পরিতাপের বিষয় এই যে, অল্প কিছুদিন আগে এই সিন্ডিকেট চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমির বিরুদ্ধে ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে একটি হত্যা মামলা দিয়ে দেয়। ওই বানোয়াট মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়, পুতুল ও শেখ রেহানার নামের আগে আসামি হিসেবে গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমির নাম দিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দেড় বছর পরে তদন্তকারী আইও মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমিকে অব্যাহতি দেন।

ডেভেলপার কোম্পানি বিলুপ্তকরণের রায় ছাড়াও ইতিপূর্বে এনায়েত করিম গংয়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত উচ্ছেদ মামলার রায়ও দীর্ঘ ১৭ বছর পরে সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত জমি ও সম্পত্তির প্রকৃত মালিক চিকিৎসক মোস্তফা মালেক রুমির পক্ষে দিয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারসহ বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয় এবং আদালতের নির্দেশের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাজির হননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...