আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ড

বিচার আটকাতে উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার

বিচার আটকাতে উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষ

সাত বছর আগে এই দিনে রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে ১৭ নম্বর সড়কের ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন প্রাণ হারান। এতে আহত হন ৭১ জন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। তবে বিচার আটকাতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে আসামিপক্ষ। এরই মধ্যে এক আসামির পক্ষে মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ এসেছে। অপর আসামিরাও উচ্চ আদালতে ছুটছেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।

এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনার প্রায় ৩ বছর ৯ মাস পর ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর মামলাটি তদন্ত শেষে আটজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবি পুলিশ। তবে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) সমীর চন্দ্র সূত্রধর।

বিজ্ঞাপন

ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর মামলার ধার্য তারিখে ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরফাতুল রাকিবের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। তবে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আসামিরা হলেন— এফআর টাওয়ার ভবনের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে থাকা এস এম এইচ আই ফারুক, তাজভিরুল ইসলাম, সেলিম উল্লাহ, এ এ মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আমিনুর রহমান, মিসেস ওয়ারদা ইকবাল, রফিকুল ইসলাম ও কাজী মাহমুদুন নবী। এদের মধ্যে এস এম এইচ আই ফারুক এবং কাজী মাহমুদুন নবী মারা গেছেন। আসামিদের মধ্যে ফারুক জমির মূল মালিক। বিএনপি নেতা তাজভীরুল ইসলাম ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি। অপর ছয়জন ভবন পরিচালনা কমিটির সদস্য।

এরপর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত বছরের ২৮ অগাস্ট সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার শুরুর আগেই মারা যান এস এম এইচ আই ফারুক। ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল হাসানের আদালতে গত ৭ জানুয়ারি মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। তাজভিরুল ইসলাম এবং ওয়ারদা ইকবাল অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন জানিয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৫ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন রেখেছেন।

এদিকে তাজভিরুল ইসলামের পক্ষে উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে তার আইনজীবী সাজেদুর রহমান বলেন, মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে, সাক্ষ্যের পর্যায়ে গেছে। একই ঘটনায় এ মামলার পাশাপাশি দুদকের আরেকটি মামলা হয়েছে। একই অপরাধে দুই মামলা, যা চলতে পারে না। অভিযোগ গঠনই ইলিগ্যাল হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ফ্ল্যাট মালিক। বিল্ডিংয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজের সঙ্গে জড়িত না। কনস্ট্রাকশনের ভুল-ত্রুটির কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। কিন্তু তাদেরই আসামি করা হয়নি। রূপায়ণ গ্রুপের মালিককে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাই। উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।’

অপর আসামিরাও উচ্চ আদালতে যাবেন জানিয়ে আমিনুর, সেলিম ও মনিরুজ্জামানের আইনজীবী সালমান আর রহমান বলেন, ‘মামলাটা সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আছে। তাজভিরুল ইসলাম নামে একজনের পক্ষে মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালত স্থগিত করেছে। শিগগির আমরাও উচ্চ আদালতে যাব।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রস্তুত। আসামিরা উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন। উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দিলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে স্থগিতের আদেশ না এলে সাক্ষী হাজির করে মামলার বিচার শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে একজন নিহত হন। আহত হন ৭১ জন। ওই ঘটনায় বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন দত্ত ৩০ মার্চ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...