জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানের বিচারের দাবি জানিয়েছেন গুলিবিদ্ধ হাসান গাজী ও আল আমিন।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি শেষে এই দাবি জানান তারা।
জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে যথাক্রমে একাদশ ও দ্বাদশ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন হাসান ও আল আমিন।
জবানবন্দিতে হাসান গাজী জানান, তার বর্তমান বয়স ৩৯ বছর। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, ভিকি, ডিস বাবু, শাহ নিজাম, টিটু, সাজনু, শুভ্রসহ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের লোকজন তাঁদের মিছিলের ওপর ককটেল ও গুলি ছুড়তে থাকে। ফলে তাদের মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তাদের ছোড়া একটি গুলি তার বাম হাঁটুতে লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসা নিলেও চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান তিনি।
গাজী জানান, চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও শামীম ওসমানের গুণ্ডাবাহিনী হাসপাতাল ঘিরে রাখে। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসে তাদের বলেন, আপনারাও বাঁচেন, আমাদেরও বাঁচান। পরে তিনি বাসায় চলে যেতে বাধ্য হন। ঠিকমতো চিকিৎসা না চলায় তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। ওইদিন নারায়ণগঞ্জে আরও অনেকে আহত ও নিহত হয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে আসামিদের বিচারের দাবি জানান।
জবানবন্দিতে আল আমিন জানান, তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। তিনি আগে অটোরিকশা চালাতেন, তবে বর্তমানে বেকার। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ব্রিজের নিচে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। পরে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর শামীম ওসমানের নেতৃত্বে অপর আসামিরা তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এতে তার পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। চিকিৎসা নিয়েও তিনি স্বাভাবিক হতে পারেননি। ওইদিন তিনি ছাড়াও আরও অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত ও নিহত হন। জবানবন্দি শেষে তিনিও আসামিদের বিচারের দাবি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


