ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ গত ১৯ এপ্রিল এ পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত অপর দুই আসামিরা হলেন, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসেন।
মঙ্গলবার মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। এদিন তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা আদালতকে জানান তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার। তিনি আদালতকে জানান, তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতি শক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শারীরিকভাবে অক্ষম।
পাশাপাশি অভিযোগ গঠন ও শুনানি পেছাতে আবেদন করেন। তবে আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণের কোন সুযোগ নেই মর্মে দুদকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। পরে আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন নামে এক আসামি জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি আরিফুল ইসলাম জানান, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। দুই আসামি পলাতক থাকায় গত ১৯ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজ মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
এদিন তোফায়েল আহমেদের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতে আবেদন দিয়ে বলেন, তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এজন্য তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।
আরিফুল ইসলাম আরো জানান, আসামি পলাতক থাকাবস্থায় এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য মর্মে দুদকের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। আসামিকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে। আদালত তোফায়েল আহমেদের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০২ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো-এর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলা মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা গোপন করার উদ্দেশ্যে সহযোগীদের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করেন।
মামলায় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
এলআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

