সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার

সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর পল্টন থানায় মানব পাচার আইনে করা মামলায় এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ফের তাকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে অতি সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ৬ দিনের সময় স্বল্পতার কারণে পাওয়া অফ এটর্নিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো নির্বাচনের পদ্ধতি, এফডব্লিউসিএসএমের অপারেশনাল কার্যক্রম, ২০২২-২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় কতজন কর্মী প্রেরণ করেছে, এই আসামির এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করেছে, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পত্রগুলো সম্পর্কে আসামিকে সম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদে আসামির নিকট হতে পুরোপুরি তথ্য পাওয়া যায়নি। ছয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

আরও বলা হয়, আসামি এজেন্সির মাধ্যমে প্রেরিত যাত্রীদের মধ্যে কতজন ফেরত এসেছে তার তথ্য, মেডিকেল ফি বাবদ কত টাকা গ্রহণ করেছে, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ টাকা উদ্ধার, অন্যন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনার জন্য আসামিকে নিজ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ফের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম, আমিনুল ইসলাম সরকার এর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

‎‎সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের প্রোপাইটর আলতাব খান।

মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.), আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও মামলার আসামিরা মাফিয়া সিন্ডিকেট চক্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থি জঘন্য অপরাধ করেছে। মামলার আসামি সাবেক সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকুরিরত অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছেলেকে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে বিধিবর্হিভূতভাবে একটি প্রবাসী নামক অ্যাপস চালু করার অনুমোদন দিয়ে চক্রকে সহযোগিতা করেছে। পরস্পর যোগসাজশে মামলার বাদীর সরলতার সুযোগে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে প্রত্যেকের দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করেছে। এছাড়া তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করেছে।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৯ মার্চ আবারও তাকে ৬ দিনের রিমান্ড দেয় আদলাত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...