অ্যাটর্নি জেনারেল

দ্রুততম সময়ে রামিসা হত্যার রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

দ্রুততম সময়ে রামিসা হত্যার রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, দ্রুততম সময়ে পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাই বিচারকাজ বিলম্বিত হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

বিজ্ঞাপন

এই মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, বিচারিক আদালত থেকে রেফারেন্স এবং পেপার বুক আসার পর থেকে দ্রুততার সঙ্গে উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রামিসার বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। এ মামলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করেন দুই আসামি।

তারও আগে, সকাল পৌনে ৯টায় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। পরে দুই আসামিকে এজলাসে তোলা হয়।

মামলার রায় ঘিরে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে এই দিন ধার্য করেন বিচারক। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুল পড়ুয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। এরপর পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পাঁচ দিন তদন্ত করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেখানে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আসামি করা হয়।

আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে অভিযোগপত্র জমার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। এরপর একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন