রক্তঋণ

রক্তঋণ

একদল অধিবেশক, যারা সুখস্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন, স্বপ্নের ফানুস উড়িয়েছিলেন, ডুবন্ত জাহাজের মতো তারা হতাশায় ডুবে যান; কেননা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এমন ভয়ানক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। অথচ স্পিকার ও মন্ত্রীর বাগ্‌বিতণ্ডা উপস্থিত সদস্যসহ দেশবাসীকে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। বিস্ময়জড়ানো চোখে তারা ঘটে যাওয়া ঘটনা বিশ্লেষণ করতে উদ্যোগী হন। বিক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকারকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে জানতাম আপনি পাগল। কিন্তু ইদানীং মনে হচ্ছে শুধু পাগল নয়, শয়তানও; আপনার মধ্যে আজাজিলগোত্রীয় কোনো শয়তান ভর করেছে। তা না হলে এমন বেফাঁস কথা বলতে পারতেন না; অস্বীকার করতে পারতেন না, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহত এবং অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার অবদান।’

পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকার এবং বিরোধীদলীয় হুইপ-চিপ হুইপ তৎপর হয়ে ওঠেন। তাদের তৎপরতায় পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত হলে সদস্যরা স্পিকারের কাছে বিবৃতি প্রদানের জন্য দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

স্পিকার বললেন, দেখুন, আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে। মন্ত্রি সাহেব অহেতুক আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি তো তাকে কিছু বলিনি। যা বলার ওই মেয়েটিকে বলেছি।

বক্তার বক্তব্য সভাসদদের মধ্যে নতুন করে হাসির খোরাক জোগায়। অস্থিরচিত্তে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, কোন মেয়ের কথা বলছেন আপনি!

—ওই যে ছোট্ট বাচ্চা একটি মেয়ে, যে মন্ত্রীর আসনে বসা ছিল।

এবার আর বুঝতে বাকি থাকে না, স্পিকারের মাথায় কোনো না কোনো গন্ডগোল আছে। শুধু স্ব-আসন নয়, মন্ত্রীর আশেপাশে কোনো নারী সদস্যের উপস্থিতি নেই—অল্প বয়সি মেয়ের কথা তো বলাই বাহুল্য!

কেউ কেউ ভাবেন, বয়সের কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া তার দৃষ্টিশক্তিতেও দুর্বলতা রয়েছে। দুর্বলতার কারণে কী দেখতে কী দেখেছেন, তার ঠিক-ঠিকানা নেই!

একজন নারী সদস্য মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করেন, মেয়েটির বয়স আনুমানিক কত?

—এই ধরেন সাত কি আট বছর।

—গায়ের রঙ?

—ফর্সা।

নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা ফর্সা রঙের একটি মেয়ের খোঁজে সংসদের ভেতরে চিরুনি অভিযান চালান; কিন্তু কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অবশেষে সকলে একমত হন, স্পিকারের মাথায় নিশ্চয় গন্ডগোল রয়েছে। গন্ডগোল কিংবা সমস্যা সমাধানের জন্য দেশের নামিদামি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন; কিন্তু কোনো প্রকারের অসংগতি খুঁজে পান না। ডাক্তারি রিপোর্টে মন্ত্রীকে পুরোপুরি সুস্থ ঘোষণা করা হয়। অতঃপর তারা বিদেশি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। সেখানেও অভিন্ন ফল—স্পিকার সুস্থ।

ফলে সংসদের ভেতরে-বাইরে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কারো কারো দাবি—স্পিকার নয়, সমস্যা যদি থাকে তো মন্ত্রীর রয়েছে। তার চিকিৎসা জরুরি।

জরুরি ভিত্তিতে অপরাধবিষয়ক মন্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তারবাবু নিশ্চিত করেন, তিনিও সুস্থ।

তাহলে অসুস্থ কে?

অসুস্থ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্পিকার ও মন্ত্রীকে আলাদা আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

—মেয়েটিকে ঠিক ক’দিন দেখেছেন।

—এই ধরেন সাত কি আট দিন হবে।

—সে আপনাকে কী বলতে চায়!

—ঠিকঠাক বুঝতে পারি না। তবে মাঝে মাঝে তামাশাও করে। একদিন বুড়ো ভাম বলেছিল; আরেকদিন বলেছিল নাটের গুরু। মাঝে মাঝে চুল নিয়েও কটাক্ষ করে।

—তা, চুল বিষয়ে কী বলে!

—আমার চুল নাকি পাকা শণের মতো সাদা!

মেয়ের ব্যাপারে মন্ত্রীর কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। সংসদের ভেতরে উল্লেখিত বয়সের কোনো মেয়ে তিনি দেখেননি। কিংবা তার চোখে কোনো প্রকার অসংগতি ধরা পড়েনি। বরং স্পিকার তাকে অহেতুক দোষারোপ করছেন। কমিটির সদস্যরা দোষারোপের ধরন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি নাকি আসন ছেড়ে মেয়েটিকে বসতে দিই।

বসার বিষয়ে স্পিকারের অভিন্ন মত—জি, মেয়েটিকে তিনিই বসার স্থান করে দেন।

—কিন্তু কীভাবে!

—বাচ্চা মেয়েটিকে আসনে বসিয়ে তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। এজন্য আমার ভুল হয়। কে যে কী জিজ্ঞেস করে, উত্তর দিতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলি।

সহানুভূতির স্বরে একজন সদস্য জিজ্ঞেস করেন—সে কি অন্য কারো কাছে বসে না!

দুহাতের দশ আঙুল এবং মাথা এক সাথে নাড়িয়ে বলেন—না না, প্রশ্নই ওঠে না; আমি যে কদিন দেখেছি, মাননীয় অপরাধবিষয়ক মন্ত্রীর পাশেই দেখেছি।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন করে সংসদের আসনবিন্যাস করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। স্পিকারের তথ্যমতে, মেয়েটিও আসন বদলায়। মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত আসনে গিয়ে বসে। শুধু কি বসা; হাত নেড়ে কী যেন বলে!

মেয়ের না বলা কথা জানার জন্য নিরুপায় হয়ে তারা তান্ত্রিকের কাছে যায়। নিজেদের সমস্যার কথা খুলে বলে। সমাধানের পথ খুঁজতে অনুরোধ করে। তান্ত্রিক রাজি হয়। মগ্ন হয় এবং শেষমেষ মগ্নতার গভীর থেকে একটা প্রেতাত্মা আবিষ্কার করে। উপস্থিত সদস্যদের ভয়ার্তভাবে বলেন, ওই আত্মা একজন স্বৈরাচারের।

—বলেন কী, স্বৈরাচার!

তান্ত্রিক আরো বলেন, তিনি এতিম ছিলেন। তাছাড়া স্বজনহারা মানুষের ব্যথা উনার চাইতে কেউ বেশি বোঝে না।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে একে-অন্যের দিকে তাকান।

—তাহলে!

—যা-ই করি, গোপনে করতে হবে।

বয়সি সদস্য ঘাড় নেড়ে বলেন, যা ভালো মনে করেন, করেন; তবে আমার খুব ভয় হচ্ছে। যদি কারো ঘাড় মটকে দেয়!

হুংকার ছেড়ে তান্ত্রিক বলেন, দেয় না; বলেন আলবত দেবে। নির্ঘাত কারো ঘাড় মটকে রক্ত পান করবে।

—বলেন কী বাপজি, রক্ত!

—তা আর বলছি কী! প্রেতাত্মা স্বয়ং কালীভক্ত। তার ঠোঁটে খুন-গুম হওয়া অসংখ্য মানুষের রক্ত লেগে আছে। রক্ত ছাড়া অন্য কিছুতে তার তৃষ্ণা মিটে না।

বয়সিজন সাহস জোগান, আরে মিয়া, ভয়ের কী আছে! ভয়কে জয় করতে না পারলে দেশ পরিচালনা করবেন কীভাবে! তাছাড়া দেশের জন্যই তো চব্বিশের বিপ্লব।

তাজা প্রাণের উদাহরণ হিসেবে শহীদ আবু সাঈদকে তারা শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

কথকের মুখে আফসোস, স্বৈরাচার পালালেও তার প্রেতাত্মা যে রয়ে গেছে! তাকে কীভাবে সামলাবেন!

তান্ত্রিক পথ বাতলান, পাঁঠাবলি দিতে হবে। বলির রক্ত মাটিতে পড়লে কালী খুশি হন। তাকে খুশি করতে পারলে ওই প্রেতাত্মা পালানোর পথ পাবে না।

বলির বিষয়ে প্রথমে ইতস্তত করলেও শেষমেষ রাজি হয়ে যান; জনতার শান্তির কথা ভেবে রাজি না হয়ে পারেন না তারা। তবে শর্ত গোপনীয়তা; গোপনে করতে হবে। আপত্তি করেন না তান্ত্রিক।

অমাবস্যা রাতে কোনো এক শ্মশানের প্রান্তর হয়ে ওঠে বলির ময়দান। খণ্ডিত দেহ ও মস্তকে পাঁঠাদের গড়াগড়ি দেখে আবার তদন্ত কমিটির সদস্যদের বুকের মধ্যে কাঁপুনি শুরু হয়। আহা, কী নিষ্ঠুর প্রক্রিয়ায় প্রাণহরণ! ব্যথিত পরানে হাহাকার বেজে ওঠে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে আমাদের তরতাজা যুবকরা এভাবেই প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে।

প্রাণের বিনিময়ে কালীকে তারা প্রাণ দেয়; রক্ত দেয়। এভাবেই রক্তপিপাসু স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাকে সরাতে চায়। না হলে জনজীবনে স্বস্তি আসবে না। সংসদীয় কর্মকাণ্ডে অচলাবস্থা; অবস্থা দিনকে দিন অবনতির পথে। তান্ত্রিক বলেন, অবশ্যই সরে যাবে; যেতে বাধ্য সে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন; যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সংসদের গোপন অধিবেশনে পরিলক্ষিত হয়, দুর্বল নয় ওই প্রেতাত্মা বরং আরো সবল হয়েছে। আচার-আচরণে ক্রুদ্ধতার চিহ্ন। ক্রুদ্ধ স্বরে উপস্থিত সদস্যদের ভর্ৎসনা করে। অট্টহাসিতে গড়াগড়ি দেয়। হাস্যধ্বনি সংসদের দেয়ালে বাধা পেয়ে প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হয়। এবার আর শুধু স্পিকার নন, স্বয়ং মন্ত্রীও ওই ধ্বনি শুনতে পান।

গোপন রাখতে চাইলেও গোপন থাকে না; দেয়ালের কান গলে খবর পৌঁছে যায় পত্রিকার পাতায়-পাতায়। জনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রেতাত্মার উপাখ্যান তাদের মনে নানামুখী ভাবনার জন্ম দেয়। কেউ পরামর্শ দেয়, মুক্তি পেতে হলে সংসদ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে। কেননা ওই ভবনে লেপ্টে আছে শত-সহস্র ছাত্র-জনতার রক্তের দাগ।

কারো মতে, অভিশপ্ত এই ভবন। নিশিরাতের ভোট কিংবা ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে অবমাননা করা হয়েছে। তামাশার নির্বাচনে অপমানিত হয়েছে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণকে উপেক্ষা করে কখনোই ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যারা টিকে থাকার চেষ্টা করে, তারা দেশদ্রোহী। দ্রোহীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে, জনতার কাঠগড়ায় হাজির করতে হবে। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে আর কেউ স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বপ্নে পাওয়া ইশারায় একদল সংসদ সদস্য আরব অভিমুখে যাত্রা করেন। বিস্তর পথ পাড়ি দিয়ে তারা পৌঁছে যান সিরিয়ার রাক্কা শহরে। হজরত ওয়ায়েস আল-কারানির মাজারের পাশে খুঁজে পান কাঙ্ক্ষিত সেই সাধককে, যে সাধকের বিষয়ে তারা স্বপ্নাদিষ্ট হয়েছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সাধক নিজেও তাদের জন্য অপেক্ষারত। মনের মধ্যে সাহস সঞ্চার হয়; ভাগ্য সহায় হলে এবার নিশ্চয়ই অপেক্ষার অবসান ঘটবে! আত্মাকেন্দ্রিক ঝামেলার সুষ্ঠু অবসান হবে। অবসানকল্পে আগত সদস্যরা নিজেদের সমস্যার কথা অবগত করান। মনোযোগ সহকারে সবার বক্তব্য শ্রবণ করেন তিনি। কিন্তু শ্রবণান্তে মত দেন—আত্মা বিষয়ে কবিরাজের বক্তব্য সত্যের অপলাপ। তিনি ডাহা মিথ্যে বলেছেন।

নতজানু হয়ে একজন জিজ্ঞেস করে, তাহলে সত্য কোনটি, হুজুর।

সত্য অনুসন্ধানে সাধক মুরাকাবায় বসেন। মগ্নতার গভীর থেকে উঠে আসে চরম এক সত্য। সত্য বলতে দ্বিধা করেন না তিনি, শিশুটির নাম রিয়া গোপ। সনাতন ধর্মাবলম্বী। বাবার নাম দীপক কুমার গোপ; মা বিউটি ঘোষ। নারায়ণগঞ্জ সদরের নয়ামাটি এলাকায় ঘরবসতি। দীনবন্ধু মার্কেটের পঞ্চম তলায় বসবাস করত। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু ১৯ জুলাই শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার দৃশ্য আড়াল করার উপায় নেই। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঘটনার ভিডিও-ফুটেজ ভাইরাল হয়। বিশ্ববাসী অবাক নয়নে প্রত্যক্ষ করে একজন স্বৈরশাসকের দানবীয় আচরণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরকারি বাহিনী দৃশ্যত দানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। দানবীয় আচরণ থেকে নিষ্পাপ শিশুও রক্ষা পায়নি। বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়া গোপ সেদিন বহুতল ভবনের ছাদে খেলতে গিয়েছিল; মেয়েটি জানত না, ওই খেলাই হবে তার শেষ খেলা। যাবতীয় নীতি-নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে ব্যবহৃত সাঁজোয়া যান এবং হেলিকপ্টার রাজপথে নামিয়েছিল। হেলিকপ্টার হতে ছোড়া গুলিতে রিয়াসহ বাসাবাড়িতে অবস্থানরত নারী-পুরুষ-শিশু দোকানি ও পথচারী ছাত্র-জনতা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। সংসদ ভবনে মেয়েটির আগমনের হেতু বিষয়ে জানতে চাইলে সাধক বলেন, বিচারপ্রার্থী সে। বিচারের দাবি নিয়ে সংসদে উপস্থিত হয়।

উৎসাহী হয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য বলেন, বিচার তো চলমান! আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই বিচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

—কিন্তু তারা চায় স্বাধীন বিচারব্যবস্থা। বিচারের নামে প্রহসন কিছুতেই মেনে নেবে না। তাছাড়া খোঁজ নিয়ে দেখো, রিয়া গোপের মামলাটি ধামাচাপা পড়েছে। অর্থের বিনিময়ে কোনো রাঘব-বোয়াল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা ওই চেষ্টা সফল হতে দেবেন না।

—কিন্তু কী করবে তারা!

—এমন কিছু করবে, যা তোমরা চিন্তাও করতে পারবে না। মাত্রই খেলা শুরু হয়েছে! তোমরা যারা জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছ, তোমাদের বিপদ আরো বেশি। কেননা প্রতিটি ঘটনার জন্য তোমাদেরই জবাবদিহি করতে হবে। রিয়া গোপের সঙ্গে অন্য সব শহীদ যুক্ত হলে তোমাদের পাগল হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

নিষ্ঠুর সময়ের মুখোমুখি তারা। প্রত্যেকের কাঁধে পাহাড়সমান বোঝা। হয় বোঝা বইতে হবে, নাহয় পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগের ভাবনায় ভাবিত হলে সাধক তাদের সাহস জোগান, ভয় নেই, বাবা। সত্যে অবিচল থাকলে পথ হাঁটতে অসুবিধা হয় না।

সংসদ সদস্যদের চোখেমুখে পাহাড় ডিঙানোর প্রত্যয়। ডিঙি নৌকায় চেপে অথই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার প্রত্যাশা। সাধকের সান্নিধ্যে প্রত্যাশার মাত্রা যেন আরো আকাশমুখী হয়ে ওঠে! মুখোমুখি বসেন তারা। ইচ্ছেশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমস্বরে জিকির করেন। জিকিরে-জিকিরে মাজার প্রাঙ্গণ মশগুল। প্রাণে প্রাণে অপ্রার্থিব আবহ। আবহ আরো খানিক গাঢ় হলে স্পষ্ট দেখতে পান—আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত এক প্রভাত। সূর্যোদয়ের সেই মোহনীয় আভা যেন নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিতবাহী। রিয়া গোপ এবং অন্য শহীদদের আত্মা আলোর ভেতর থেকে বিচারপ্রার্থীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সংসদ সদস্যরা অবাক বিস্ময়ে ওই দৃশ্যাবলি প্রত্যক্ষ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন