আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ট্রাইব্যুনাল গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে ফজলে করিমের সাবেক স্ত্রীকে সাইবার হেনস্তা

স্টাফ রিপোর্টার

চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে ফজলে করিমের সাবেক স্ত্রীকে সাইবার হেনস্তা

আন্তর্জাতিক অপরাধের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে জড়িয়ে সাইবার বুলিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর সাবেক স্ত্রী রিজওয়ানা ইউসুফ।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আট সপ্তাহ সময় চায় প্রসিকিউশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ মার্চ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পর শুনানি করেন ফজলে করিমের স্ত্রী রিজওয়ানা।

প্রথমেই তিনি ফজলে করিমের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা জনিত কারণে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা আবেদন করেন। এর আগে হাসপাতালের বাইরে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনও দেখতে চেয়েছিলেন আদালত। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আগের আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন ফজলে করিমের এই আইনজীবী।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তাসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকির কিছু বিষয় ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন আইনজীবী রিজওয়ানা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ট্রাইব্যুনালকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিযেছেন রেজাউল করিম নামে এক এনসিপি নেতা। নিজেদের ইচ্ছেমতো রায় না হলে এমন হুমকি দেন তিনি। তাই আমার চাওয়া হলো আমার মক্কেলকে কারাগারে যেন নিরাপত্তা দেওয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির পথে।

আইনজীবী রিজওয়ানা বলেন, আমার সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটরের সম্পর্কের কারণে তিনি আমাকে ফেভার করছেন, এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে। অথচ ফজলে করিম আমার প্রাক্তন স্বামী। এছাড়া চিফ প্রসিকিউটরকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুৎসা রটানো হচ্ছে। এতে সামাজিকভাবে আমরা হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য অনেক আইনজীবী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সদ্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরও ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। কিন্তু চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ও আমার একটি কাটিং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ফজলে করিমের জামিনের বিষয়ে দুজনের মধ্যে আপস হয়েছে। তাকে যদি এ মামলায় জামিন দেওয়া হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ওই এনসিপি নেতা। এ সময় ফেসবুকে তাকে নিয়ে করা কিছু অশালীন মন্তব্য তুলে ধরেন এই আইনজীবী।

এ বিষয়ে প্রসিকিউশনকে শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এমন কোনো ব্যাপারে প্রসিকিউশন অবগত কিনা জানতে চাওয়া হয়। তখন প্রসিকিউটর তামীম বলেন, আমরা অবগত রয়েছি। শুধু আসামিপক্ষকেই নয়, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করা হয়। এতে আমরাও মাঝেমধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ি। তাই আদালত চাইলে আমলে নিতে পারেন।

এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ব্যাখ্যা চাইবো। তখন বিচারপতি শফিউল আলম বলেন, বিচারব্যবস্থাকে যদি এভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তাহলে রাষ্ট্র টিকবে কিভাবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলো কই।

এরপর ট্রাইব্যুনাল বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের নাম-পরিচয়সহ একটি আবেদন জমা দিন। আমরা ব্যবস্থা নেবো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন