রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে : ল’ইয়ার্স কাউন্সিল

রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে : ল’ইয়ার্স কাউন্সিল
বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল

রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পরিবর্তে সরকার বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা গণভোটের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল আয়োজিত ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, গত ১৩ জুলাই সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। অথচ সফল গণঅভ্যুত্থান ও জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল। বাস্তবে তা না করে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সরকার এগুলো সংশোধন করে পুনরায় আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন আইনের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, কোনো আইন সংবিধানসম্মত কি না, তা নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার উচ্চ আদালতের। অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের বক্তব্য ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থী।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করা হয়। আদালত রুল জারি করলেও কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সদস্যদের শপথ গ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

শিশির মনির বলেন, ফিলিপাইন, গ্রানাডা ও লেসোথোতেও গণঅভ্যুত্থানের পর একই ধরনের সাংবিধানিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেসব দেশের সর্বোচ্চ আদালত জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই দৃষ্টান্ত অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার আইনি দলিল এবং এটি কার্যকর আইন হিসেবে বহাল রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো আদালত এখন পর্যন্ত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেননি। তাই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত পদক্ষেপ।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন এমপি, মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপিসহ বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিপুলসংখ্যক আইনজীবীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন