অর্থপাচার মামলায় রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
এদিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা।
কারাগারে আটকে রাখার আবেদনে বলা হয়, আসামিকে বিধি মোতাবেক ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার নিকট থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে তার ব্যাংক হিসাব/এমএফএস হিসাবগুলোতে কারা/কী কারণে অর্থ জমা প্রদান করেছে এবং জমাকৃত অর্থ কার নিকট হস্তান্তর/কোথায় কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত কাজে সহায়ক হবে।
আবেদনে আরো বলা হয়, আসামির দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আসামিপক্ষে শ্যামল কুমার রায় জামিন চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন আদালত।
এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। মামলা দায়েরের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ১৩ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ, হরিদাস চন্দ্র তরণী একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার নামে থাকা ৯ ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, তার ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসা বহির্ভূত নগদ অর্থ জমা হয়েছে। হরিদাস চন্দ্র তরণীসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র হুন্ডি তথা ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার’ করতেন। ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা গোপন করেছে। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

