আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জুলাই যোদ্ধা মাহদীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

জুলাই যোদ্ধা মাহদীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’- এমন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ এবং ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’- এমন স্লোগান দেন।

অবরোধ কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যায় মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে মুক্তি না দেওয়ায় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম।

শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মাহদী হাসানকে ডিবি পুলিশের একটি দল হেফাজতে নেয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন।

এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। সেখানে ওসির সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওতে মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার মুখে মাহদী হাসানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে তার আটকের পর হবিগঞ্জ সদর থানার সামনেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেয় পুলিশ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় যান। তাঁর মধ্যস্থতায় পরে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে, রাজধানীতে শাহবাগ অবরোধ প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১২টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ত্যাগ করছেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন