চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে এগারতম দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি চুয়েটের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শেষ হয়।
এ সময়ম তারা সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে বহালের দাবি জানান। একইসাথে রোববার থেকেও আবারও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারী সমিতির নেতারা।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ’’ আমাদের আন্দোলনের ১১তম দিন অতিবাহিত হলেও সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। এই উদ্যোগ নিতে যতো দেরি হবে সংকট ততো গভীর হবে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। আমরা একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব।
একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী অরিন্দম দে বলেন, প্রশাসনের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। আমরা সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এই অনিশ্চয়তার একটা শেষ চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রথম দিন থেকেই আকুল আকুতি—আপনি হস্তক্ষেপ করে এই সমস্যার একটা সমাধান দিন। আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে চাই।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, চুয়েটের ক্লাস, পরীক্ষা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারী সমিতিও তাদের যৌক্তিক আন্দোলনে একমত। শিক্ষার্থীরা চান, দ্রুত ঊর্ধ্বতন মহল থেকে ইতিবাচক ফলাফল আসুক।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। একইদিন রাতে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্তটির প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করে। পরের দিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে এ পর্যন্ত মশাল মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শন, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ফলে গত ১১ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

