শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ৩৬ দফা ইশতেহারে যা আছে

শিবিরের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ৩৬ দফা ইশতেহারে যা আছে

ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য উচ্চাভিলাষী ৩৬ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচিত হলে ১২ মাসের মধ্যে এসব ব্যাপক পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডাকসুর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন খান এই ‘১২ মাস, ৩৬ সংস্কার’ শীর্ষক ইশতেহার ঘোষণা করেন। আবাসন সংকট থেকে শুরু করে অ্যাকাডেমিক প্রশাসন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল উদ্বেগগুলোকেই এতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

1

আবাসন সংকটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিবিরের এই প্যানেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করা হবে। নতুন হল নির্মাণের সময় পর্যন্ত অস্থায়ী আবাসন ভাতা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে অস্থায়ী হোস্টেলের ব্যবস্থা করা হবে।

2

নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুরুত্ব পেয়েছে, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য। প্রস্তাবনায় রয়েছে ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধি-নিষেধ শিথিল করা, পরিবহণে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে নারী সদস্য সংখ্যা বাড়ানো। মায়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে ব্রেস্টফিডিং রুম, শিশু যত্ন কেন্দ্র এবং নমনীয় মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

3

প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্যে রয়েছে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার অফিস’ প্রতিষ্ঠা, যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হয়। পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। খাবারের মানোন্নয়নে থাকবে পুষ্টিবিদের তৈরি সাশ্রয়ী মেন্যু, প্রতি তিন মাস অন্তর খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা, এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মিল ভাউচার।

4

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলো এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর ভেতরের ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘গেস্টরুম’ ও ‘গণরুম’ কালচার সম্পূর্ণরূপে বিলোপের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জুলাইয়ের নৃশংস হামলার বিচার এবং সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যাসহ অতীতে সংঘটিত নির্যাতনেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে প্যানেল।

নির্বাচনী সংস্কারের ক্ষেত্রে ডাকসু নির্বাচনকে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিবিরের প্যানেলটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অবকাঠামো, প্রশাসন, নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়ের মতো বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য দিয়ে কাঠামোবদ্ধ করেছে। এসব বাস্তবায়নের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রশাসনের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের ওপর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন