শিশুদের শিক্ষাকে আনন্দময় করার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়েছেন শিশুদেরকে। আমাদের শিশুরা যাতে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে, সে জন্য সারা দেশের প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডে মিল চালু করা হয়েছে। এই বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা মিড ডে মিল পাবে বলেও জানানা তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী দুই মাসের মধ্যেই সারা দেশের শিশুদেরকে স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান, শিশু শুধু বই পড়বে তাই নয়, শিশুদের শিক্ষা হবে আনন্দময়, সেইজন্য আমরা সেদিকেও যাচ্ছি। আমরা শিশুদেরকে ক্রিয়াপ্রেমি করার জন্য খেলাধুলাকে আমরা কারিকুলামের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিচ্ছি।
মন্ত্রী বলেন, আজকে য অনুষ্ঠানটি করতে যাচ্ছি, আমার মনে হয় বিশ্বে একটি রেকর্ড। ৬৫ হাজারে বেশি প্রতিষ্ঠান এখানে প্রতেযোগিতায় এসেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের মেসি, পেলে। সেজন্য এই ছোট থেকেই তাদের ক্রিয়ামোদী এবং খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করছি।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এশিয়ান গেমসে নারীরা জিতে এসেছে। আমি আশা করব আগামীর ভবিষ্যৎ আমাদের শিশুদেরকে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে সকল বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে তৈরি করতে পারি তাহলেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আগামী দিনের বাংলাদেশ আমরা পাবো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই ভাবনা থেকে আজকের এই প্রতিযোগিতা। ইতোমধ্যে আমাদের প্রাথমিক স্কুলের যে পঞ্চম পরিকল্পনা শুরু হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের একটি স্কুলও ভবনবিহীন থাকবে না। একটি স্কুল মিডডে মিল ছাড়া থাকবে না, কোন শিক্ষার্থী ড্রেস ছাড়া থাকবে না এবং তাদেরকে আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা দেওয়া হবে এবং সামনের দিকে তারা এগিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা দেখতে চাই না, কাধভর্তি ব্যাগে বই নিয়ে আমাদের শিশুরা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। আমরা দেখতে চাই, তারা হাসতে হাসতে খেলতে খেলতে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।
উল্লেখ্য, এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লক্ষ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লক্ষ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে।
ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা/থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা গত ২৩ মে শেষ হয়। আজ থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলায় দেশের ৮ টি বিভাগের বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ৮ টি বালক ও ৮টি বালিকা মোট ১৬ টি দলের খেলা শুরু হবে। এ পর্যায়ের খেলার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

