রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ম্যানুয়াল ভোট গণনাসহ ১২ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে দুই প্যানেল। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল ও 'রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ' প্যানেল এই দাবিগুলো পেশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল দুটি অভিযোগ করেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ছাত্রশিবির নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন উপঢৌকন বিতরণ করছে। একইসাথে ব্যালট নম্বর প্রদানেও তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্যানেলগুলোর বক্তারা এই ঘটনাকে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারা বলেন, প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন যেন কোনোভাবেই কলঙ্কিত না হয়। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক একটি রাকসু নির্বাচন।
দুই প্যানেলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১২ দফা দাবিগুলো হলো-
স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার এবং ভোট শুরুর আগে সাংবাদিক ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে তা উন্মুক্ত করা, ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি ব্যবহার নিশ্চিত করা, এক দিনের মধ্যে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করা, নির্বাচনি খরচ ও পোস্টারের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা।
ব্যালট ছাপানো ও বাঁধাইয়ের সময় এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত বুথের ব্যবস্থা করা, ডিজিটাল বোর্ডে ভোটার নাম্বার প্রকাশ করা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর সেল গঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভ্রান্তিকর পেজ-গ্রুপ বন্ধ করা, ভোটের দিন ভোটার তালিকা হাতে ধরিয়ে না দেওয়া।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করার ফলে দুইদিনেও রেজাল্ট হয়নি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে রাবিতে ৩০ হাজার ভোট ম্যানুয়ালি গণনা করা হলে বিশৃঙ্খলা হিবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন, জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি ইভিএমের কিভাবে ভোট কারচুপি করা হয়, রাকসুতেও এমন হতে পারে। এছাড়াও, ইভিএমে ক্যারিক্যাচার করার মাধ্যমে ভোট কারচুপি হতে পারে। আমরা চাই, প্রশাসন বেশি জনবল নিয়োগ করে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা করুক।
ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবীর বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হলে কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চাই, দীর্ঘদিন পর যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, তাই নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। আমরা স্বচ্ছ ভোট বাক্স স্থাপন, ম্যানুয়ালি ভোট গণনাসহ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এই ১২ দফা দাবি জানিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল ইসলাম জীবন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা এবং ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আফরিন জাহান ও এজিএস প্রার্থী আল শাহরিয়ার শুভসহ দুই প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

