প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস

প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস

টাইমস্কেল সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করেছেন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকরা।

রোববার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশ হয়। পরে বিকালে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের বৈঠক হয়। এ সময় ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (জাতীয়করণকৃত) উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষক মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে সারাদেশ থেকে শিক্ষকরা জড়ো হন। বিকাল চারটার দিকে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। সেখান থেকে শিক্ষকদের সাত প্রতিনিধি নিয়ে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়।

সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমাদের দাবিগুলো আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা আইনিভাবে সহায়তার মাধ্যমে পূরণের আশ্বাস দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মাসুদ আকতার খান। তার আশ্বাসের বিষয়টি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলেও পরের দিন থেকে সব স্কুলে তালা ঝোলানো হবে বলেও উল্লেখ করেন এই শিক্ষক নেতা। এর আগে গত ১৭ তারিখেও তাদের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।

আন্দোলনকারীরা জানান, জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ জারির আগ পর্যন্ত ৮, ১২, ১৫ বছর পূর্তিতে টাইম স্কেল প্রদানের বিষয়টি প্রচলিত ছিল। সে ক্ষেত্রে জাতীয়করণের আগের চাকরির ৫০ শতাংশ এবং জাতীয়করণের পর শতভাগ চাকরির দৈর্ঘ্যতার ভিত্তিতে টাইম স্কেল দেওয়া সংক্রান্ত নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৮৪ সালের ২৩ আগস্ট, ১৯৮৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ও ১৯৯৪ সালের ২৭ জুনের চিঠি এবং দেশের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের ৫ জুনের ৮৮৯ নম্বর স্মারকে টাইমস্কেল সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক টাইম স্কেল মঞ্জুরি আদেশের ভিত্তিতেই হিসাব রক্ষণ অফিসের টাইম স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা মামলা দায়ের করলে আদালত ২০২০ সালের ১২ আগস্টের চিঠিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মোট ২১টি মামলা হয়েছে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করায় বিষয়টি ঝুলে আছে। সারাদেশে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৮ হাজার ৭২০ জন শিক্ষক আছেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষক মহাসমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব মো. মহিউদ্দিন খোন্দকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী আক্কাছ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আজমল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. সেলিম তালুকদার প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন