‘দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ববি

বিদেশে অবস্থানরত গবেষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছেন

স্টাফ রিপোর্টার

বিদেশে অবস্থানরত গবেষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছেন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রচিত দেশের শিক্ষা সংস্কার নিয়ে গবেষণাভিত্তিক ও নীতিনির্ধারণমুখী গ্রন্থ “বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন”-এর মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ উন্মোচনের আয়োজন করা হয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়নের নানা দিক বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গ্রন্থটির লেখক ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে দেশের শিক্ষা খাতে মৌলিক গবেষণা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রয়োগ এখনও সীমিত। “বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন” বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা নিয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। দেশ-বিদেশে শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী শিক্ষা কাঠামো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন কাজ ও আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং বিদেশে অবস্থানরত গবেষকরাও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।

বক্তব্যে তিনি সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, অতীতে যারা সরকারের সমালোচনা করেছেন, আজ দায়িত্বে এসে তাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতের বাস্তব সমস্যাগুলো অনেক গভীর। কোথাও একটি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই, কোথাও বিদ্যালয়ের জমি-সংকট রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান সময়সাপেক্ষ হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে প্রাথমিক শিক্ষাখাতে যুগোপযোগী সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষাবান্ধব নীতির কারণে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা আমাদের জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের মতোই শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও মানবিক করতে হবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা.জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় যোগ্যতা, দক্ষতা ও দুরদর্শিতাকে মূল্যায়ন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন রাষ্ট্র পরিচালনায় সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক জায়গায় দায়িত্ব প্রদানই সফলতার মূল চাবিকাঠি। শিক্ষা খাতে ববি হাজ্জাজের মতো উদ্যমী, আধুনিক ও সংস্কারমুখী ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব প্রদান তারই প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসক যেমন সঠিক চিকিৎসার আগে রোগ নির্ণয় করেন, তেমনি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সঠিক “ডায়াগনোসিস” জরুরি। বর্তমানে এমন অনেক সংকট রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন না করেই পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ তৈরিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।তিনি আশা প্রকাশ করেন এই সংকট উত্তরণে গ্রন্থটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...