শহীদ আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী প্রতীক: ত্রাণমন্ত্রী

শহীদ আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী প্রতীক: ত্রাণমন্ত্রী

শহীদ আবু সাঈদ ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাহসী প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছায় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান প্রবেশমুখে শহীদ আবু সাঈদ গেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদের পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ তরুণ, শিক্ষার্থী, শিশু, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। রংপুরের সন্তান আবু সাঈদকে নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ গর্ববোধ করেন।

তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে তাঁর নামে গেট নির্মাণের উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ গেটটি দেখে তাঁর আত্মত্যাগের কথা জানতে পারবেন। যুগে যুগে আবু সাঈদের মতো সাহসী মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। জুলাই আন্দোলনে তাঁর আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাইয়ে আত্মদানকারীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। কোনো অঞ্চলকে বৈষম্যের মধ্যে রাখতে চায় না সরকার। রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এ বিষয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সনদ বাস্তবায়নে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে বিরোধী পক্ষকেও রাখা হয়েছে। যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় সরকার। আর যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রংপুরের উন্নয়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণেও সরকার কাজ করছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য সরকার বড় ধরনের বরাদ্দ দিয়েছে। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। রংপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাদকাসক্তিকে শুধু রংপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে তরুণেরা এ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এটি মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাটে এ আন্দোলনের কার্যক্রম দেখতে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এ উদ্যোগের মডেল সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আব্দুল খালেক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলির মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়ান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। পরে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর প্রায় দুই বছর পর অবশেষে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখে গেট নির্মাণের কাজ শুরু হলো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন