ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ সম্মেলনে জাবের

হত্যা-ধর্ষণের বিচার নেই, বিচার শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বললে

হত্যা-ধর্ষণের বিচার নেই, বিচার শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বললে

‘এই রাষ্ট্রে ধর্ষণ, গণহত্যা, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না; কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেউ কিছু বললে, কেউ গালি দিলে দ্রুত গতিতে তার বিচার হয়’- এমন মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।

বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু নিখোঁজ, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘এই রাষ্ট্রে কোনো ধর্ষণের বিচার হয় না, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয় না, জুলাই গণহত্যার বিচার হয় না, পিলখানা হত্যার বিচার হয় না, শাপলা গণহত্যার বিচার হয় না। এই রাষ্ট্রে শুধুমাত্র একটা বিচারিক ব্যবস্থাই টিকে আছে, সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কেউ কিছু বললো কিনা, কোনো গালি দিল কি না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেওয়ার অভিযোগে এখন মানহানির মামলার পরিবর্তে সন্ত্রাসী মামলা দেওয়া হচ্ছে। এটি আইনের স্পষ্টত অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক বলেন, সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এসেছে সাত মাস ১০ দিন। এরই মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘সবচেয়ে নাজুক অবস্থার’ মধ্যে রয়েছে। এরপরও সরকার এখনো ‘হানিমুন মুড’ থেকে বের হতে পারেনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পতিত স্বৈরাচারের সহযোগী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে।

শিশু নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত নয়জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ তাদের কাছে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে শিশুদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এক মাসের মধ্যেই কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে ধর্ষণের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ধর্ষণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এক ব্যক্তির মেয়েকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। বিচার না পাওয়া এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে ওই তরুণী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।’

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘কারণ সে জানে এই রাষ্ট্রে কোনো বিচার পাওয়া যায় না। জনগণকে আইন দিয়ে কিংবা কারাগারে বন্দি করে তাদের মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো পূর্ণ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। একইভাবে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘জনগণকে আইন দিয়ে বা জেলে পুরে মুখ বন্ধ রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ কারাগারগুলো ভরিয়েও ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। সুতরাং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন