আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রদল। তাদের দাবি, শিবির প্যানেলের প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের উপঢৌকন দিয়ে ভোট চাইছে এবং অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে প্রচারণা চালাচ্ছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের কথা জানান ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
তিনি অভিযোগ করেন, “একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বারবার আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। গতকাল ফোকাস কোচিং সেন্টারে নবীনবরণের নামে শিক্ষার্থীদের উপঢৌকন দিয়ে ভোট চেয়েছে শিবির প্যানেলের প্রার্থীরা। এটা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন। যদি এটি লঙ্ঘন না হয়, তাহলে আমরাও বাইরে শিক্ষার্থীদের উপঢৌকন দিতে পারি।”
আবিদুল আরও বলেন, “কিছুক্ষণ আগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাসরুমে ঢুকে চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছে মাইকে ভোট চেয়েছে শিবিরের প্রার্থী। একটার পর একটা লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে নির্বাচনে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।”
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ বিকেলে চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এ সময় ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী আরিফুর রহমানসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ২৯ আগস্ট ঢাকার শেরাটন হোটেলের বিপরীতে শহীদ আবু সাঈদ অডিটোরিয়ামে ফোকাস কোচিং সেন্টারের উদ্যোগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খাদ্য ও উপহার দেওয়া হয়। একই মঞ্চে শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস প্রার্থী এস. এম. ফরহাদ ও এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান উপস্থিত থেকে ভোট প্রার্থনা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ফোকাস কোচিং সেন্টার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক-বর্তমান নেতাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে নবীনবরণ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল ডাকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রচারণা চালানো।
ছাত্রদল অভিযোগ করে, আচরণবিধির ধারা ৯ অনুযায়ী প্রচার চলাকালে ভোটারদের কোনো ধরনের উপঢৌকন বা খাদ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ। অথচ ওই অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা সরাসরি উপস্থিত থেকে ভোট প্রার্থনা করেছেন এবং একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য ও উপহার বিতরণ হয়েছে। এটি নির্বাচনের ন্যায্যতা ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

