শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে হত্যা করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মধ্যরাতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা- দেশব্যাপী চলমান নির্বাচনি সহিংসতা, নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ‘রেজাউল ভাই মরল কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, রেজাউল হত্যার বিচার চাই’, ‘প্লান প্লান কোন প্লান, মানুষ খুনের মাস্টার প্লান’, ‘নারীর ওপর হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব দে’সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার বিএনপি আর নেই, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। আজকের বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।” জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের প্রত্যাশা থাকলেও গত দেড় বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।সাদিক কায়েম আরও বলেন, “নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের হাতে নিজেদের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? মানুষ খুনের বড় বড় প্ল্যান এদেশে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।"
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলেন। কিন্তু সেই প্ল্যানের অংশ হিসেবেই কি সারাদেশে নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা চলছে? এখনো সময় আছে- দল সংস্কার করুন, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, “৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা বিএনপির কাছ থেকে ইতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের দলের মধ্যেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যা করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, খুন, চাঁদাবাজি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আর সম্ভব নয়।
শেরপুরের ঘটনার প্রসঙ্গে জিএস ফরহাদ বলেন, “আজ শেরপুরে শুধু একজন জামায়াত নেতা নয়, সেনা কর্মকর্তারাও আহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনের সময় নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুন সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করছে। মানুষ এখন আর বক্তব্যে নয়, কাজে বিশ্বাস করে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আর আমরা দেখছি আপনার নেতাকর্মীরা শুরু করেছে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও নারীর ওপর ঘৃণ্য হামলা। এগুলো যদি আপনার প্ল্যান হয়, তাহলে হাসিনার মতোই পরিণতি বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।”
ইন্টেরিম সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আমরা নিরাপদ পরিবেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকেই যদি নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবেন?
সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান ডাকসু নেতারা। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতি বাস্তবায়নের যে কোনো ‘বড় প্ল্যান’ প্রতিহত করতে জুলাই প্রজন্ম আবারও রাজপথে নামতে প্রস্তুত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

